http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/the-bridegroom-fled-from-the-mandapa-chasing-the-bride-got-married-at-the-police-station.jpg

কনেপক্ষের তাড়া খেয়ে মণ্ডপ থেকে পালালো বর, বিয়ে হলো থানায়!

সারা বিশ্ব

বিয়ে আনন্দের এক মুহূর্ত। কিন্তু বিয়েতে মাঝে মাঝে এমন সব ঘটনা ঘটে যা ভোলার নয়। তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের শাহাজানপুরে এক বিয়েতে। বরযাত্রীরা খুশি মনে গিয়েছিল বিয়ে করতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কনেপক্ষের তাড়া খেয়ে মারধরের শিকার হয়ে থানায় আশ্রয় নিতে হয় তাদের। পরে সেখানেই বিয়ে হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ২৫ বছর বয়সী কমলেশ বার্মা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। তিনি দিল্লিতে কাজ করেন। তার বাবা তাদের দূরসম্পর্কীয় এক আত্মীয় রাম অবতার বার্মার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ক্রান্তি বার্মার সঙ্গে কমলেশের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর দুজনের মধ্যে ফোনালাপ শুরু হয়।

শনিবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তাদের। সেই অনুযায়ী বরযাত্রা নিয়ে ক্রান্তির বাড়িতে হাজির হয় কমলেশ। কিন্তু ক্রান্তির কিছু আত্মীয় বরযাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। হঠাৎ করে ক্রান্তির এক আত্মীয় কমলেশের বাবা রাম কৃষ্ণকে থাপ্পড় মারে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এসময় কমলেশ এবং তার ভাই ভীমলেশ এগিয়ে গেলে কিছু লোক তাদের লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করে।

কনেপক্ষের লোকজনের এমন হঠাৎ আচরণে হকচকিয়ে যান কমলেশ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তখন জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে যান তারা। তাদের কাছে তখন এটাই একমাত্র অপশন ছিল। ভীমলেশ বলেন, আমরা কখনও ভাবিনি এমন ঘটনা ঘটবে। ক্রান্তির বাবা খুবই ভালো মানুষ। তিনি মদও পর্যন্ত পান করেন না।

তিনি বলেন, পরে আমরা জানতে পারি ক্রান্তির দুলাভাই তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। তাই পরিকল্পনামাফিক এমন কাজ করেছে, যাতে বিয়ে বাতিল হয়ে যায়। সে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল। তবে ধন্যবাদ জানাই পুলিশকে। তাদের কারণে শুধু আমরাই বেঁচে যাইনি। বিয়েটাও বেঁচে গেছে।

কমলেশ বলেন, আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। কিছু মাতাল ব্যক্তি আমাদের ধাক্কা দিতে থাকে। ক্রান্তির পরিবারের সঙ্গে আমার কোনও সমস্যা ছিল না। আমি জানতাম না নিরপরাধ। কিন্তু আমি আর তাদের গ্রামে যাবে না। আমার মাথায় চোট লেগেছে। ডাক্তার বলেছে, ১৫ দিন বিশ্রাম নিতে।

আরসি মিশন পুলিশ স্টেশনের এসএইচও সঞ্জয় সিং বলেছেন, আমরা জানতে পারি কনের পরিবার বিয়েতে ঝামেলা করছে। তখন আমরা বিয়ের বাকি কাজ থানায় সারতে বলি। আমাদের থানায় ছোট একটা মন্দির আছে। সেখানেই রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিয়ে হয়। তারা সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থানায় ছিল। পরে পুলিশি নিরাপত্তা তাদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়।

Tagged