ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে অস্ত্রবিরতির আহ্বান বাইডেনের

সারা বিশ্ব

আট দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্রবিরতিতে মধ্যস্থতার লক্ষ্যে মিসরসহ বিভিন্ন দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন বাইডেন। যদিও এর আগে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের যৌথ বিবৃতি ভেটো দিয়ে আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালেও এখনো সহিংসতা থামার ইঙ্গিত নেই ফিলিস্তিনে। যতক্ষণ প্রয়োজন, পূর্ণ শক্তিতে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

য়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে ইসরায়েলকে অনুরোধ করেছেন বাইডেন। হামাস ও গাজার সশস্ত্র অন্য সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেছেন দুই নেতা।

ফিলিস্তিনে চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও বেসামরিক প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও মানবাধিকার সংগঠন আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলকে বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মুখপাত্র। একই সাথে বেসামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে হামাসের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ফিলিস্তিনে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেও ইসরাইল আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষেও কথা বলেছেন। অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ।

গাজায় ১০ মে থেকে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত উপত্যকায় ২১২ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬১ জন শিশু। এসব হামলার জবাবে হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া রকেটে ইসরায়েলের ১০ নাগরিক নিহত হয়, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।

অবরোধে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ২০ লাখ বাসিন্দার গাজা উপত্যকা নতুন করে সহিংসতার ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে অঞ্চলটিতে বোমা মেরে ৪০টি স্কুল ও চারটি হাসপাতাল ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধসিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। জ্বালানি সংকটে অঞ্চলটির মৌলিক সেবাও বন্ধ হওয়ার মুখে।

Tagged