খোঁড়া হচ্ছে গণকবর, শ্মশানে গণচিতা!

সারা বিশ্ব

জায়গা নেই দেহ দাহ করার , কবরস্থানগুলোও ভরে উঠেছে। গণকবর খোঁড়া হচ্ছে। অনেকটা ফাঁকা জায়গা পার্কিং লটের কাছে । সারি সারি চিতা সাজানো হয়েছে। কোভিডে মৃত রোগীর দেহ একের পর এক  আসছে। জ্বলে উঠছে চিতা। ভারতের রাজধানীর এমন ছবি দেখে শিউরে উঠেছিল দেশবাসী। চিতা নেভেনি। মৃত্যুও থামেনি। আবারও একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড করল দিল্লি। নিউইয়র্কে গত বছর  এমনই ছবি দেখা গিয়েছিল । মরদেহ কবর দেওয়ার জন্য গণকবর খোঁড়া হচ্ছিল। ঠিক এমনই পরিস্থিতি নয়াদিল্লিতে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, ভারতে একদিনে (২৩ এপ্রিল) করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৭ জনের। একদিনেই ২ হাজার ৬২১ জন মারা গেছেন । হাসপাতালে কোভিড বেড নেই, মেডিকেল অক্সিজেনের সংকট। স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল ছবিটা বারে বারেই ভেসে উঠছে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলোর বাইরে রোগীদের লম্বা লাইন। সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের জায়গার অভাবে ফুটপাতেও ঠাঁই নিতে হয়েছে।

দিল্লির সবচেয়ে বড় শ্মশান নিগমবোধ ঘাটে মৃতদেহ সৎকারের যট লেগে গেছে। স্থানীয়রাই বলছেন, গতকাল থেকেই নিগমবোধ শ্মশানের বাইরে লম্বা লাইন পড়েছে । অনেক দেহ সৎকার করাই যায়নি। এমন পরিস্থিতি এর আগে কখনও দেখা যায়নি। কবরস্থানগুলোতেও একই অবস্থা । জায়গার এতটাই অভাব দেখা দিয়েছে যে, এক্সক্যাভেটরে মাটি খুঁড়ে নতুন করে কবর দেওয়ার জায়গা তৈরি করতে হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লির হাসপাতালগুরোতে অক্সিজেনের যোগান বাড়ানোর জন্য আর্জি জানিয়েছেন । জানা গেছে, ১০ টন অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে ।১৪ হাজার কিউবিক মিটার অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে গঙ্গারাম হাসপাতালে । তেগবাহাদুর এবং ম্যাক্স হাসপাতালেও অক্সিজেন পৌঁছেছে। তবে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের আশঙ্কা, কোভিড রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে এই অক্সিজেনে বেশিদিন চালানো সম্ভব হবে না। দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে অবিলম্বে শিল্পক্ষেত্রে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। পরিবর্তে মেডিক্যাল অক্সিজেনের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

সূত্র: দ্য ওয়াল, ওয়ার্ল্ডোমিটার