http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/রাতারাতি-সাদা-হয়ে-গেল-নদীর-পানি-বয়ে-চলেছে-দুধ.jpg

রাতারাতি সাদা হয়ে গেল নদীর পানি, বয়ে চলেছে দুধ!

সারা বিশ্ব

যুক্তরাজ্যের দেশ ওয়েলসের কার্মারথেনশিয়ার কাউন্টির ছোট্ট গ্রাম লানওয়ার্ডা। গ্রামটিতে আছে মনোরম এক নদী। তার নাম দুলাইস। সেই দুলাইস নদীই রাতারাতি বদলে গেল ‘দুধের নদীতে’! কারণ আর কিছুই না। কিছুদিন আগে প্রায় ২৮ হাজার লিটার দুধভর্তি দশাসই ট্যাঙ্কার টাল সামলাতে না পেরে নদীতে পড়ে যায়। যার জেরে দুধের ধারা মিশে গিয়ে নদীর একাংশের জলস্রোত সাদা হয়ে গিয়েছে।

দেখলে মনে হচ্ছে ঘন দুধ পর্বতের খাত ধরে বয়ে চলেছে। অদ্ভুত এই দৃশ্য ইতোমধ্যে নেটদুনিয়ায় সাড়া ফেলেছে। যদিও ঘটনায় দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেক পরিবেশবিদ।

যাত্রাপথে হঠাৎ গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় এমনটা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আসল কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে লানওয়ার্ডার স্থানীয় প্রশাসন। তবে পরিবেশবিদ উইল মিলার্ড বলেছেন, প্রতিদিন আমরা যে দুধ খাই সেটা আমাদের পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে। কিন্তু তারই একটা সামান্য অংশ জঙ্গলের পরিবেশ ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট।

এই পরিবেশবিদের ব্যাখ্যা, দুধ নদীর জটিল জৈবজীবনের পক্ষে ক্ষতিকারক। এর ফলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে যায়। সেই শৃঙ্খলের একটি স্তর নড়ে গেলে গোটা ব্যবস্থা ধ্বংস হতে পারে। নদীর বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একে পুরোপুরি মুছে ফেলাটাও অসম্ভব কিছু নয়।

ওয়েলসের ন্যাচারাল রিসোর্সেস টিমের প্রধান লোয়ান উইলিয়ামসও মিলার্ডের সুরে সুর মিলিয়ে সাফ বলে দেন, নদীতে এতটা পরিমাণ দুধ মিশে যাওয়ার চেয়ে খারাপ কিছু হয় না। সম পরিমাণ সিমেন্টের কাই পড়লেও এতটা চিন্তা হত না।

উইলিয়ামস জানান, দুধ জলে মিশে অক্সিজেন টেনে নেয়। ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে পারে। যদিও নদীর কোনো মাছ এখনও পর্যন্ত মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর। জীববিজ্ঞানীদের একটি বিশেষ দল সেখানে গিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ও প্রভাব নিরূপণ করবেন বলে জানা গেছে।