723d0af616b1fe7d5c7e56a3532be3cd

দেশে তৈরি হচ্ছে ‘গেম পাবলিশার’

প্রযুক্তি

দেশে ছোট ও বড় উদ্যোগে গেমস তৈরি হলেও উপযুক্ত প্রকাশকের অভাবে এই বাজারটি বিকশিত হতে পারছে না। ফলে গেমের বাজারটি ধরতে পারছে না বাংলাদেশ। দেশে গেম ডেভেলপারের অভাব নেই। সংখ্যাটি দিন দিন বাড়ছে।

আর এসব দেখেই গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো স্বল্প পরিসরে হলেও গেম প্রকাশ (পাবলিশ) করা শুরু করেছে। জানা গেছে, গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবস নিজেরা গেম তৈরি ও প্রকাশের পাশাপাশি অন্যান্য ডেভেলপারের তৈরি গেমসও প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও দেশের গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই গেম প্রকাশ করে থাকে।

এটা ব্যয়বহুল হওয়ায় নিয়মিত আপডেট করা সম্ভব হয় না। আপডেট না হলে গেমাররা সেই গেম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।  অপরদিকে দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোও মোবাইল প্ল্যাটফর্মে কিছু গেম প্রকাশ করে থাকে। বর্তমানে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে রবি। আগে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক তার গ্রাহকদের জন্য গেম প্রকাশ করলেও বর্তমানে তা বন্ধ রেখেছে। প্রসঙ্গত, দেশে গেমস দুইভাবে তৈরি হয়। এক. বাণিজ্যিক বা ফরমায়েশের ভিত্তিতে।

যেমন- মীনা গেম।  বর্তমানে মীনার থ্রিডি গেমও তৈরি হয়েছে শিশুদের জন্য। দুই. একটি গ্রুপ নিজেরা গেম তৈরি করে প্লেস্টোরে আপ করে থাকে। গেমস নির্মাতারা নিয়মিত তা আপগ্রেড করছে এবং নতুন নতুন ভার্সন নিয়ে আসছে। ‘ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্টস’ এমনই একটা গেম।  এরই মধ্যে ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্টস এখন পর্যন্ত ১৬ মিলিয়নের বেশিবার প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাইজআপ ল্যাবস।

বিশ্ববাজারে ডিজনি, প্লে প্লে ফান, জেপ টু ল্যাব, হেডআপ গেমস, টিম ১৭, প্যারাডক্স, ইন্টারঅ্যাক্টিভ ন্যানোভেশনের মতো পাবলিশার থাকলেও আমাদের দেশে প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ক্ষুদ্র পরিসরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু কারিগরি জটিলতা রয়েছে, তাই গেম পাবলিশার তৈরি হচ্ছে না।

যা হয়েছে সেটা খুব ছোট পরিসরে।’ তিনি জানান, সরকারের আইসিটি বিভাগ গেম ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। ৫০০ গেমস তৈরি করা হয় সেই প্রশিক্ষণ প্রকল্পে।  সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, ‘আমাদের দেশের গেম ডেভেলপাররা মনিটাইজ করতে পারে না। গুগল থেকে করা যায় না।  ফলে ‘ইন অ্যাপ’ পারচেজ করা যায় না। আমরা গুগলের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কোনও সমাধান এখনও হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা টাকা দিয়ে গেম খেলতে চাই, কিন্তু ‘ইন অ্যাপ’ পারচেজ করা যায় না বলে তা জনপ্রিয় হয় না। অপরদিকে গেম ডেভেলপাররা গেমে বিজ্ঞাপন নিয়ে আয় করার চেষ্টা করে। কিন্তু খেলার মাঝে বিজ্ঞাপন চলে এলে গেমাররা বিরক্ত হয়।  এটাও একটা সমস্যা।’

তিনি জানান, গ্রাহকরা গেম খেললে মোবাইল অপারেটররা টকটাইম থেকে টাকা কেটে নেয়। এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু ওই টাকার পরিমাণ খুব অল্প। এটা বাড়ানো যেতে পারে। তাহলে এটা আরও জনপ্রিয় হবে। ডেভেলপাররা আরও উৎসাহিত হবে। এখানে গুগলের ঝামেলা থাকবে না।

দেশের গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পিনঅফ স্টুডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আবু সায়িদ মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন গেম পাবলিশার প্রয়োজন। এটা করা কঠিন কিছু নয়, খুবই সহজ। বিনিয়োগ করতে হবে। আমাদের দেশে কিছু গেমস আসছে। তবে পাবলিশারের অভাবে তা ভালো মার্কেট পাচ্ছে না।’ তিনি জানান, দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো কিছু গেমস তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করে থাকে।

এটার পরিমাণ খুব বেশি নয়। গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের লোকজন টাকা দিয়ে গেম খেলতে চায় না। দেশের বাইরের চিত্রটা আবার ভিন্ন। আমরা গেমস প্লে-স্টোরে আপ করলাম, কিন্তু সেভাবে ডাউনলোড হলো না। তাহলে এই মার্কেটটি দাঁড়াবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের প্রতিষ্ঠানের তৈরি ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্টস গেমটি বিদেশে মার্কেট টার্গেট করে নির্মাণ করা।

ফলে সাফল্যও পেয়েছে সেভাবে। তিনি জানান, রাইজআপ ল্যাপস দেশের মেধাবী ডেভেলপারদের তৈরি গেম প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়ে পাবলিশার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে মেধাবী ডেভেলপারের অভাব নেই। তাদের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিলে তারা ভালো ভালো গেম তৈরি করতে পারবেন। রাইজআপ ল্যাবস সেই প্ল্যাটফর্মই তৈরি করে দিতে চায়।

তিনি আরও জানান, ইউনিসেফের জন্য মীনা কার্টুন চরিত্রকে রাইজআপ ল্যাবস বানিয়েছে থ্রিডি গেম হিসেবে। মীনা গেম-২ সব বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নতুন গল্পের গেম, যেমন- ‘গর্ভবতী মা এবং নবজাতক শিশুর যত্ন নেওয়া’।  এছাড়া রবির জন্য তৈরি করেছে প্রথম রিয়েল-টাইম মাল্টিপ্লেয়ার গেম। ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু পরিবর্তনসহ  গেমটি এখনও টেস্ট সংস্করণে রয়েছে।