http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/আইপিএল-শুরু-হতেই-মৃত্যুপুরী-ভারত-সমালোচনার-ঝড়.jpg

আইপিএল শুরু হতেই মৃত্যুপুরী ভারত, সমালোচনার ঝড়

খেলাধুলা

একদিকে বাতাস ভারী লাশের গন্ধে, অন্যপাশেই চলছে ধুমধাড়াক্কার ক্রিকেটীয় বিনোদন আইপিএল। আইপিএল শুরু হতেই এই পরিস্থিতিতে কেন আইপিএল? এমন প্রশ্ন নেটিজেনদের। একই প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টও।

প্রতিবাদে আইপিএলের সব খবর ছাপানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। আর কঠিন এই সময়ে পরিবারের পাশে থাকতে ক্যাম্প ছাড়ছেন ক্রিকেটাররাও। রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন কি সত্যিই বাঁশি বাজাচ্ছিলেন? ঐতিহাসিক এই তর্ক তুলে রেখে বিপর্যস্ত ভারতে চোখ ফেরানো যাক।

কেরালা, পুনে, মহারাষ্ট্র, দিল্লি কিংবা পশ্চিমবঙ্গ। নীল আকাশ ছেয়ে গেছে কালো ধোঁয়ায়। চারপাশে শবদেহ পোড়ানোর গন্ধ। স্বজন হারানোর হাহাকার। একবার, শুধু একটিবার বুক ভরে শ্বাস নেয়ার, সে কি করুণ আকুতি। চারপাশে অক্সিজেনের সংকট, জায়গা নেই শ্মশানেও। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত গোটা ভারত।

অথচ ভিন্ন চিত্র ঠিক অন্যপাশেই। লাশের এই গন্ধের মাঝেও চলছে ক্রিকেটের বিনোদন আইপিএল। বায়োবাবলের আয়েশি জীবন। মাঠের খেলার সঙ্গে নাচে গানে উন্মত্ত কাটছে সময়। কিন্তু, মৃত্যুপুরীতে কেন এমন আয়োজন? সরাসরি এই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রশ্ন তুলেছেন এমন সময়ে আইপিএল চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে। তাদের হয়ে মুখ খুলেছেন অজি কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভারতের করোনা পরিস্থিতি খুবই বাজে। এমন সময়ে আইপিএল চালিয়ে নেয়া কতটুকু যৌক্তিক? নাকি আইপিএল কঠিন এই সময়ে ভারতবাসীকে একটু হলেও স্বস্তি দিচ্ছে? যেমনটাই হোক না কেন, ভারতীয়দের জন্য শুভ কামনা আমার সবসময়ই।’

সরাসরি মুখ না খুললেও প্রতিবাদ আসছে দলের ভেতর থেকেও। করোনাকালে পরিবারের পাশে থাকতে ক্যাম্প ছেড়েছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে গেছেন রাজস্থানের অ্যান্ডু টাই। এতকিছুর পরেও যে কোন কিছুর বিনিময়ে, আসর শেষ করতে মরিয়া বিসিসিআই। অবশ্য খেলার চেয়ে বরাবরই টাকাকে বেশি প্রাধান্য দেয়া ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে, এর চেয়ে বেশি কিছু কি, আদৌ আশা করা যায়?