মঙ্গলগ্রহে গেলেন, খাবেনটা কী, ভেবেছেন?

প্রযুক্তি খবর বিজ্ঞান

ধরুন চলেই গেলেন সেই আপনার সপ্নের একটা রাজ্য মঙ্গলগ্রহে। গেলেন ঠিকই কিন্তু কিছুনা কিছুতো অবশ্যই খেয়ে থাকতে হবে নাকি? ভুট্টাসিদ্ধ, আরশোলা আর ছারপোকার কারি, সঙ্গে পাঁঠার মাংসের কাবাব, আর কপাল ভালো থাকলে কয়েক কুচি ক্যাপসিকাম এসব খেয়ে থাকতে পারবেন তো। মঙ্গলগ্রহ মানে ভেবেছেন কি সেখানে শুধু মঙ্গল আর মঙ্গল। আসলে তা নয়।

একমাত্র ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানির বদৌলতে আজ মহাকাশের যাত্রাটা সহজ হয়েছে। নাহলে সেখানে বসতবাড়ি বানানো তো দুরের কোথা তা চিন্তাও করা যেত না। আর যাবেন  এ যখন খাবেন টা কি? সে জন্য বিশেষজ্ঞরা এখন তৈরি করে ফেলেছেন মঙ্গলের মেনুও। একটু ডিটেলে ব্যাপারটা বুঝে নেওয়া যাক। প্রথমত বুঝতে হবে, মঙ্গলে কী আছে, আর কী নেই। ঠান্ডা আছে, রোদ নেই।

মাটি আছে, জলও আছে, কিন্তু লিকুইড ফর্মে নয়। টোটাল বরফ আর একটু একটু ভেপার। মাটির তলায় কুইন্টাল কুইন্টাল খনিজ আছে, তুলে এনে চোরাবাজারে বেচার ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে আপনি বা আপনার মতো আরও লাখ খানেক মানুষ গিয়ে যদি ওখানে হাজির হন, তা হলে যা দাঁড়াবে, তা হল— হাওয়া খাওয়ার লোক আছে, কিন্তু হাওয়াই নেই।

সেখানে সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার দায়িত্ব কী কী খেতে পারেন আপনি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু শাক-সব্জি ফলানো যেতে পারে, তার সঙ্গে খেতে পারেন কীটপতঙ্গ। আর সেলুলার এগ্রিকালচার বা কোষ উৎপাদন ব্যবস্থায় তৈরি মাংস। অভ্যাস করতে হবে সেখানের সাথে সবকিছু খাওয়ার। যেহেতু সেখানে কিছুই নেই তাই সব দায়িত্ব যারা যাবে তাদের উপর বর্তাবে।

 এক এক করে দেখে নেওয়া যাক বিষয়গুলো। প্রথমে সেলুলার এগ্রিকালচার। পোষ্য হিসেবে নয়, খাদ্য হিসেবে আপনার পছন্দের প্রাণী কোনটা? ধরা যাক রেওয়াজি খাসি। তাকে বধ না করেই তার শরীর থেকে খানিকটা কোষ তুলে নিলেন।

তার পর তাকে এমন একটা রাসায়নিকে চুবিয়ে অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে রেখে দিলেন যে, সে ব্যাটা সেখানে এমনি এমনি বাড়বে। ছিল একরত্তি কোষ, কালে কালে হয়ে গেল কেজি খানেক মাংস। এ বার কষিয়ে নিন। কেষ্টর জীবকে হত্যার দায়ও আপনার গায়ে লাগল না। আবার দরকারি প্রোটিনটাও পেয়ে গেলেন।

এ বার আসা যাক পোকামাকড়ে। শুনেই নাক সিঁটকানোর কিছু নেই। চিংড়িও জলের পোকা। আপনি পেলেই খান। আমরা ভুলেই অনেক সময় অনেক পোকা অজান্তে খেয়ে ফেলি ভাতের সাথে। তাই পোকামাকড় খেলে এমন কিছু মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।

তবে মশাই সব্জির স্টক লিমিটেড। গাজরটা, মুলোটা, কায়দা করে জুকিনি বা বেলপেপারটা চাইবেন না। দিতে পারব না। মঙ্গল মানেই গ্রিন হাউসে সব্জির চাষ হচ্ছে, এমনটা ভাবতে যাবেন না। কারণ রোদের বালাই নেই।

এ বার আসি শেষ কথায়। সবই হল। কিন্তু সব হওয়ার জন্য জল তো চাই। ভুলে গেলেন, একটু আগেই তো বললাম, জলটা আছে। তবে লিকুইড না। বরফ হয়ে। তাও আবার মাটির নীচে। মিনারেলস-এর স্তরের মধ্যে খাঁজে খাঁজে আটকে আছে বরফ।  তারপর গরম করে সেটাকেই করে নিতে হবে জল।

আপাতত এই পর্যন্তই। এ সব শুনে আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন, পৃথিবীতে এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে খাদ্যের সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না কেন? উত্তরটা সিম্পল। ঈশ্বর যা করেন, মঙ্গলের জন্যই করেন।