স্মার্টফোনের বাইরে কিভাবে সন্তানকে ব্যস্ত রাখবেন

লাইফস্টাইল

দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকার কারনে অনেকেই তাদের  শিশুকে মুঠোফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত করে ফেলেছেন। এখন  হয়তো শিশুটি নিজেও ফোন ছাড়া খাচ্ছে না, তার জেদ বেড়ে গেছে। কারও সঙ্গে সে গল্প করা বা আড্ডা দেওয়ার প্রতিও তাদের অনীহা দেখাচ্ছে। এই ধরনের  অসুবিধা এড়াতে চাইলে শিশুকে বাসায় ব্যস্ত রাখতে পারেন ভিন্ন কিছু উপায়ে।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনার শিশুকে আপনি ভিন্ন উপায়ে ব্যস্ত রাখতে পারবেন।

ছবি আঁকা

ছবি  একটি  শিশুর কল্পনার জগৎকে আরও উন্মুক্ত করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনি তার হাতে তুলে দিতে পারেন রং, তুলি কৌটার রং, রং পেন্সিল, আর্ট পেপার,  ক্যানভাস। মুঠোফোনে বা কম্পিউটার  গেম,  ভিডিও থেকে তার চোখ ফিরিয়ে আনুন সাদা কাগজে। যেখানে  সে তার নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করবে । তার আঁকা ছবির প্রশংসা করুন, পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন। এছাড়াও শেখাতে পারেন কাগজ দিয়ে নানা রকম খেলনা বা উপকরণ বানানোর কৌশল।

বই পড়া

বই মনের পরিধি বারায়। কিন্তু সারা দিন  পাঠ্যবইয়ের  চাপে শিশু যেন বই দেখলেই দৌড়ে না পালায়। তাই তাকে কিছুটা সময় দিন নিজের পছন্দমতো বই পড়তে। যেকোনো বই যেমন কমিকস, রহস্য-রোমাঞ্চ, ভূতের গল্পের মতো নানা ধরনের বই পড়তে ভালোবাসে শিশুরা। তাকে নতুন বই কিনে তাকে বই পড়ায় উৎসাহ দিতে পারেন। অথবা তার নিজের কাছ থেকে তালিকা নিয়ে অনলাইনে বসেও বই কিনে দিতে পারেন। এতে করে বাইরে যাওয়ার দরকার পড়বে না।

ঘরোয়া খেলাধুলা

ঘরোয়া কিছু খেলা যেমন: লুডু, ক্যারম, দাবার মতো, পাজল মেলানোব, যা বাসায় সময় কাটানোর জন্য ভালো। শিশুকে সবসময়  এসব খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে পারেন। দাবার চাল শিশুর বুদ্ধি বিকাশে সহায়ক হবে। লুডু বা ক্যারম খেলতে খেলতে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়তে থাকবে। নানা রকম ধাঁধা, দেশ বা রাজধানীর নামবিষয়ক খেলাও খেলতে পারেন সন্তানদের নিয়ে। এতে মজা করে পয়েন্ট অর্জনের ওপর উপহার থাকতে পারে তাদের জন্য।

গান বা নাচের চর্চা

শিশুদের চোখ ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে সরাতে তাদের নাচ, গান বা আবৃত্তির মতো সাংস্কৃতিক পরিবেশে আগ্রহী করতে পারেন। তবে বেশি  চাপ দিয়ে শেখানোর দরকার নেই, বরং তার  আগ্রহ অনুযায়ী তাকে   উৎসাহ দিন। কেউ হয়তো ঘুঙুরের তাল ভালোবাসবে, কেউ চাইবে হারমোনিয়ামে বসে সুর বা তব্লার তালের খেলায় মজতে। সেজন্য  শিশুকে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রাখুন বাড়িতে। এতে সে তার নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে পাবে।

মাথা খাটানোর মতো কিছু

আপনার সন্তানকে খেলাচ্ছলে নিরীক্ষার দিকে উৎসাহিত করতে পারেন। বয়স বুঝে তাকে রুবিসকিউব, দূরবিন, অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা ছোট কোনো রিসাইকেল করা যায় এমন উপকরণ সরবরাহ করতে পারেন। এরপর সেসব কীভাবে কাজ করে, সেটা দেখিয়ে দিন। শিশুরা সাধারণত উদ্ভাবনী বিষয়গুলোতে উৎসুক হয়ে থাকে। এতে খেলাচ্ছলে সে পরবর্তী জীবনে উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহী হতে পারে। সেই সাথে তার চিন্তা শক্তি ও বৃদ্ধি পাবে।

Tagged