শরীয়ত মতে জুমার খুতবায় টাকা উঠানো জায়েজ আছে কি না?

ইসলাম

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম সমাজে জুমার দিনটিকে পৃথিবীর অন্যতম তাৎপর্যবহ দিবস হিসেবে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। এদিন নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে যাওয়া এবং নামাজ আদায় করার চেয়ে বড় আমল বা ইবাদত আর কিছু নেই।

কেননা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’

‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা: জুমআ, আয়াত: ৯-১০)

ইবাদতের এমন শ্রেষ্ঠ সময়ে ইমামের খুতবা শোনা এবং চুপ থাকা ওয়াজিব। তবে ইমামের খুতবা চলাকালীন সময়ে মসজিদের লাইনে লাইনে দানবাক্স ছেড়ে দেয়া বা টাকা উঠানো যাবে কি? এ সম্পর্কে ইসলামি শরীয়ত কী বলে?

‘না’, খুতবা চলাকালীন সময়ে দানবাক্স কিংবা লোক মারফত টাকা উঠানো যাবে না। ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে এ সময় টাকা উঠানো কিংবা দানবাক্স চালিয়ে দেয়া নাজায়েজ তথা নিষেধ।

কারণ জুমার দিন ইমামের খুতবা শোনাকে ওয়াজিব করা হয়েছে। শুধু খুতবা শোনা নয়, খুতবা চলাকালীন সময়ে চুপ থাকাও ওয়াজিব। খুতবার চলার সময় কেউ যদি কথাবার্তা বলে তবে তাকে ‘আপনি চুপ করুন’ পাশের কোনো ব্যক্তির এ কথা বলাও নিষেধ বলে হাদিসে প্রমাণিত।

সুতরাং জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালীন সময়ে খুতবা শোনা এবং চুপ থাকা ছাড়া সব ধরনের কথাবার্তা, কাজকর্ম এমনকি নামাজ, জিকির, কোরআন তেলাওয়াতও নিষিদ্ধ।

কেননা জুমার খুতবায় কোরআন থেকে কথা বলা হয়। কোরআনের দারস দেয়া হয়। রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَإِذَا قُرِىءَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

‘আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।’ (সূরা: আরাফ, আয়াত: ২০৪)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় জগত বিখ্যাত মুফাসসির হজরত মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আয়াতটি নামাজ ও জুমার খুতবার ব্যাপারে নাজিল করা হয়েছে। (ইবনে কাসির)

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ(সা.) জুমার খতুবার সময় করণীয় সম্পর্কে অনেক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং অনেক ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

হাদিসে এসেছে-

> হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করল অতঃপর জুমায় এসে চুপ করে মনোযোগ সহকারে (খুতবা) শুনল, তার পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরো অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হবে। আর যে (এ সময়) কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিম)

> হজরত আবু হুরায়রা  (রা.)  বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল  (সা.) বলেছেন, জুমার দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লিকে ‘চুপ থাক’ বলবে, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন; তা হলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে।’(বুখারি) অর্থাৎ পাশের কেউ কথা বললে তাকে চুপ করার কথাও বলা সমীচিন নয়।

ফাতহুল বারীতে এসেছে, ইমাম ইবনে ওয়াহাব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘এর অর্থ হলো, তার জুমার ফরজ আদায় হলেও সে জুমার ফজিলত থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল।’ (নাউজুবিল্লাহ!)

সুতরাং জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালীন সময়ে দানবাক্স চালিয়ে দেয়া বা চুপচাপ কেউ কেউ মসজিদের জন্য টাকা উঠানো নাজায়েজ তথা নিষেধ। এ সময় দানবাক্স চালিয়ে দেয়া বা টাকা উঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

পুরোপুরি মনোযোগ সহকারে ইমামের আলোচনা শোনার মাধ্যমে ওয়াজিব আদায় করতে হবে। কেননা কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী ইমামের খুতবা শোনা ওয়াজিব বা আবশ্যক। আর খুতবার সময় আল্লাহ তায়ালা বান্দার প্রতি রহমত নাজিল করেন।

মসজিদের উন্নয়নসহ প্রয়োজনে খুতবার আগে পরে দানবাক্স ছেড়ে দেয়া যাবে। টাকাও উঠানো যাবে। তবে খুতবার সময় নয়।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জুমার নামাজের আগে খুতবা চলাকালীন সময়ে টাকা উঠানো, দানবাক্স চালানো কিংবা অযথা কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকার এবং জুমার ফজিলত, রহমত ও বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tagged