নামাজ পড়ারত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাবেন যেভাবে

ইসলাম

অনেক সময় বাড়িতে বা মসজিদে এই সমস্যার সম্মুখীন অনেকেই। কেউ নামাজ পড়ছে অথচ তার সামনে দিয়ে যাওয়া খুবই দরকার। মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েও এই সমস্যায় পড়তে হয়। আপনার নামাজ শেষ হয়েছে। তবে ঠিক পেছনে একজন নামাজ পড়ছেন। এ সময় সামনে থেকে চলে যাওয়া নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভোগেন।

নামাজের সালাম ফেরানোর পর যদি ঠিক পেছনে কেউ নামাজ পড়ে তবে সেখান থেকে সরে গেলে নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করলে গোনাহ হয় মর্মে অনেকে বলে থাকেন। এ সব ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে।

হাদিসের বর্ণনা মতে, নামাজ পড়া ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধ। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি নামাজ পড়ে তবে তার সামনে দিয়ে একপাশ থেকে অপর পাশে যাওয়া। এভাবে আসা-যাওয়া নিষেধ। এমনটি করা গোনাহের কাজ। হাদিসে এসেছে-

হজরত বুসর ইবনু সাঈদ (রাহ.) বর্ণনা করেছেন হজরত যায়দ ইবনু খালিদ (রা.) তাকে আবু জুহায়ম (রা.) এর কাছে পাঠালেন, যেন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সম্পর্কে তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে কী শুনেছেন?

তখন আবু জুহায়ম (রা.) বললেন, ‘আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যদি নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী (ব্যক্তি) জানতো; এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে নামাজে থাকা ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো।’ আবুন নাজর (রাহ.) বলেন, ‘আমার জানা নেই তিনি চল্লিশ দিয়ে- দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন কিনা।’ (বুখারি)

হাদিসের অন্য বর্ণনায় আরো এসেছে যে-
কোনো ব্যক্তি যদি নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় তাহলে সে যেন তাকে হাত বাড়িয়ে বাধা দেয়। বাধা না শুনলে প্রয়োজনে তার সঙ্গে লড়াই করবে‌‌। কেননা সে একটি শয়তান।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের যে কেউ নামাজ পড়তে চাইলে যেন সুতরা সামনে রেখে নামাজ পড়ে এবং তার কাছাকাছি হয়। সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। অতএব যদি কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে যেন তার সঙ্গে লড়াই করে। কারণ সে একটা শয়তান।’ (ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক, দারেমি)

সামনে অতিক্রম বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অতিক্রম বলতে, এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়া। আর নামাজের সামনে দিয়ে এমনটি করাকেই নিষেধ করেছেন প্রিয় নবী (সা.)। আর যদি কোনো নামাজরত ব্যক্তির সামনে উঁচু কোনো জিনিস তথা সুতরা থাকে তবে সুতরার বাইরে দিয়ে অতিক্রম যাওয়ায় কোনো বাধা নেই। তবে এ সুতরা সেজদার স্থান থেকে আধা হাত সামনে হতে হবে।

তবে মুসল্লির সামনে যদি সুতরা (কোন একটা উঁচু জিনিস) থাকে তাহলে তার বাহির দিয়ে অথবা কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে (সেজদার স্থান থেকে সর্ব নিম্ন প্রায় আধ হাত দূর হলেই যথেষ্ট) যাতায়াত করা জায়েজ আছে।

ডান বা বামে সরে যাওয়া যাবে কি?
কোনো ব্যক্তির ঠিক বরাবর পেছনে যদি কেউ নামাজরত থাকে তবে ওই ব্যক্তি ডানে কিংবা বামে যে কোনো একদিকে সরে যেতে পারবে। তবে যদি নামাজরত ব্যক্তির সামনে থাকা ব্যক্তি যে দিকে বেশি থাকবে সেদিকেই যাবে। আর যদি ঠিক মাঝে অবস্থান করে তবে যেদিকে ইচ্ছা সরে যেতে পারবে। এভাবে ডানে কিংবা বামে সরে যাওয়া গোনাহের কারণ নয় এবং নিষিদ্ধের আওতায়ও আসবে না।

মুমিন মুসলমানের উচিত, নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলাচল বা অতিক্রম না করে অপেক্ষা করা। নামাজের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া বা অতিক্রম করার গোনাহ থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

Tagged