ঘুষ দিয়ে নেওয়া চাকরির বেতন কি হারাম না হালাল?

ইসলাম

ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া হারাম কাজ। ইসলামী শরীয়তের মধ্যে ঘুষকে হারাম করা হয়েছে। কোনো কোনো রেওয়াতে বলা হয়েছে যে, ঘুষ দানকারী, ঘুষ গ্রহণকারী এবং ঘুষের সঙ্গে যার সম্পর্ক রয়েছে তারা সবাই জাহান্নামী হবে। এই কাজটি ইসলামী শরীয়তের মধ্যে কঠিনভাবে হারাম করা হয়েছে। তাই কেউ যদি ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়ে থাকে, তাহলে সে হারাম কাজ করল এবং এর জন্য সে গুনাহগার হবে।

এই ক্ষেত্রে পরবর্তী মাসয়ালা হলো, পরে সে যদি চাকরি করে ইনকাম করে, তাহলে তার ইনকাম হারাম হবে না। কারণ, আগের কাজের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো কাজ যদি হারাম না হয় বা হারামের ওপর প্রতিষ্ঠিত না হয়, বৈধ হয়ে থাকে, তাহলে ওই কাজটিও তার জন্য হালাল এবং ইনকামও তার জন্য হালাল। সুতরাং, এই ইনকাম তার জন্য জায়েজ। কাজটি হালাল হলে এর বেতনও হালাল হবে।

অবশ্য কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে চাকরির যোগ্য হয় এবং ঘুষ প্রদান হারাম হওয়া সত্তে¡ও ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় আর পরবর্তীতে সে যথাযথভাবে দায়িত্ব আঞ্জাম দেয় তাহলে এভাবে চাকরি নেওয়া নাজায়েয হলেও বেতন হালাল হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সে তার কর্মক্ষেত্রের অযোগ্য হয় এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তার জন্য ঐ চাকরিতে থাকা বৈধ হবে না। আর ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করে বেতন নেওয়াও বৈধ হবে না। (তিরমিযী ১৩৩৭)

আর একটা বিষয় হচ্ছে যদি কোন ব্যক্তি তার যোগ্য ব্যক্তিদের রেখে একমাত্র ঘুষের জোরে চাকরি পেয়ে যায় তাহলে তার সারাজীবনের ইনকাম ও হারাম হয়ে যাবে। কেননা সেখানে তার কোন যোগ্যতাই ছিল না।

Tagged