http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/Muslim-women-are-openly-returning-to-the-tradition-of-reciting-the-Quran.jpg

প্রকাশ্যে কুরআন তিলাওয়াতের ঐতিহ্য ফেরাচ্ছে মুসলিম নারীরা

ইসলাম

ক্বারি হওয়া সহজ নয়। তাজবীদ মেনে সঠিকভাবে কুরআন তিলাওয়াত এবং উচ্চারণ করতে কখনও কখনও কয়েক বছর থেকে কয়েক দশক পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। খবর আল জাজিরার। ২৫ বছর বয়সী মদিনাহ জাভেদ। আইন নিয়ে পড়াশোনা করা স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর এই অধিকার কর্মীর ক্বারিয়াহ হওয়ার যাত্রা খুব অল্প বয়সেই শুরু হয়। পরিবারের সঙ্গে কাতারে থাকার সময় তার মা তাজবীদ ক্লাসে যোগ দিতেন।

কেলের শিশু হওয়া মদিনাহও তার মায়ের সঙ্গে সেই ক্লাসে যোগ দিতেন। আর যা শুনতেন তা আত্মস্থ করতেন। দুই দশকের ট্রেনিং নেয়ার পর ২০১৭ সালে গ্লাসগোর সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল কুরআন তিলাওয়াত এবং মারইয়াম ও ঈসা (আ.) এর গল্প বলতে মদিনাহকে আমন্ত্রণ জানায়।

তার সুরেলা তিলাওয়াতে দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে যায়। মদিনাহর জন্য এটা গর্বিত একটি মুহূর্ত ছিল। কিন্তু তিনি যখন তার তিলাওয়াত অনলাইনে শেয়ার করেন, তখন অপ্রত্যাশিতভাবে কঠোর সমালোচনা মুখে পড়েন তিনি। পরবর্তী কয়েক মাস ঘৃণামূলক ম্যাসেজ এবং হুমকি পেতে থাকেন তিনি। তার জীবন এতটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল যে তিনি আড়ালে চলে যেতে এবং নিজের নামও পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তার ফোন নম্বর নিবন্ধন করে রেখেছিল যেন কল পেলেই চলে আসতে পারে তারা।

এই পুরো সময়টাতে মুসলিম কমিউনিটি পুরোপুরি নিশ্চুপ ছিল। যুক্তরাজ্যে কোনও নারী প্রকাশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করলে অনেকে কমিউনিটিই তাদের সাধারণত বর্জন করে। কিন্তু মদিনাহ বুঝতে পারছিলেন না কেন এমনটা হবে। কেননা তার বিশ্বাস ছিল তিলাওয়াতকারীর লিঙ্গ, বর্ণ বা পোশাকের পরিবর্তে সবার ফোকাস তিলাওয়াতের উপর থাকবে।

কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, আসলে একটা ফারাক আছে। তবে নারীদের কাছ থেকে ভালোই সাড়া পান তিনি। অনেকেই তাকে জানান, তার তিলাওয়াত শুনে তারা উৎসাহী হয়েছেন। কারণ তারা প্রথমবার প্রকাশ্যে কোনও একজন নারীকে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জনপরিসরে নারীদের কুরআন তিলাওয়াত খুব স্বাভাবিক বিষয়। এই তিলাওয়াত নারী ও পুরুষ উভয়ের শোনার জন্যই করা হয়।

কিন্তু পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে কিছু মুসলিম কমিউনিটির মতে, নারীরা পুরুষসহ কোনও দর্শকের সামনে তিলাওয়াত করতে পারেন না। কারণ তারা নারীর কণ্ঠকে ‘আওরাহ’ বলে মনে করেন। এজন্য নারীদের কণ্ঠের পর্দা করা দরকার বলেও মনে করেন তারা।মদিনাহ যখন দেখলেন মূলত ক্বারিরা তাদের তিলাওয়াত অনলাইনে পোস্ট করেন, তখন তিনি হ্যাশট্যাগ ফিমেল রিসাইটারস ক্যাম্পেইন শুরু করেন গত বছর। মুসলিম মেয়ে ও নারীরা যাতে তাদের তিলাওয়াত অনলাইনে শেয়ার করতে আগ্রহী হন এবং তিলাওয়াতে পবিত্র ঐতিহ্য পুনর্জীবিত করতে তিনি এমনটা করেছেন।

টুইটার, ইন্সটাগ্রাম বা টিকটকে এই হ্যাশট্যাগ ধরে সার্চ করলে বিশ্বের একাধিক নারী ও মেয়ে ক্বারিয়াহর সংগ্রহ পাওয়া যায়। মদিনাহ বলেন, আমি সুন্দর কিছু তৈরিতে আমার সব শক্তি এবং ধ্যানজ্ঞানকে ফোকাস করেছি। আমি বুঝতে পেরেছি যে আর কোনও নারী ক্বারিয়াহ নেই তাই কাঁচের দেয়ালটা আমি ভাঙতে চেয়েছি।

কুরআন তিলাওয়াত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিশেষ করে রমজান মাসে তিলাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কুরআনের যেসব অ্যাপ রয়েছে, সেখানে কোনও নারী তিলাওয়াতকারী নেই। তাই এ লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালে একটি হ্যাশট্যাগ তৈরি করেন নিউইয়র্ক ভিত্তিক ইউনিয়ন থিওলজিক্যাল সেমিনারির ইসলাম অ্যান্ড ইন্টাররিলিজিয়াস এনগেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক জেরুসা টেনার রোডস।

ওই হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে কুরআন এক্সপ্লোরারে কাছে তাদের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে নারী তিলাওয়াতকারী যোগ করতে আহ্বান জানানো হয়। ছয় বছর পর কাত নামে মাত্র একটি অ্যাপ নারী তিলাওয়াতকারীর কণ্ঠস্বর যোগ করে। সেখানে ইন্দোনেশিয়ার সুপরিচিত ক্বারিয়াহ মারিয়া উলফার কণ্ঠস্বর যোগ করা হয়।

টেনার রোডস বলেন, মতের পার্থক্য থাকা ছাড়াও কুরআন অ্যাপগুলোতে নারী কণ্ঠস্বর না থাকার আরেকটি কারণ হচ্ছে খুব নারী তিলাওয়াতকারী পাওয়া যায় না যারা প্রকাশ্যে তিলাওয়াত করেন। আবার তাদের ক্ষেত্রে কপিরাইটও একটা ইস্যু।

২০১৯ সালে রমজান মাসে মদিনাহ বসনিয়া যান। তখন তিনি প্রথমবারের মতো একটি মসজিদ থেকে নারী কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পান। তিনি বলেন, আমি কিছু সময়ের জন্য থমকে যাই। মসজিদ থেকে নারী কণ্ঠের তিলাওয়াত কিন্তু খুব একটা শোনা যায় না। আমি খুব সুন্দর তিলাওয়াত শুনছিলাম। এটা দারুণ ছিল।

               ফ্রি কুইজে অংশগ্রহণ করে জিতে নিন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার

তিনি বলেন, ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর সময় নারী ও পুরুষ অডিয়েন্সের জন্য নারীর কুরআন তিলাওয়াত খুব স্বাভাবিক বিষয় ছিল। তারা খুব সুন্দরভাবে এবং শব্দ করে তিলাওয়াত করতেন। রাস্তায় সেটা সবাই শুনতে পেতেন এবং বাহবা দিতেন।তেমনই একজন ছিলেন উম্ম ওয়ারাক (রা.)। যে কয়েকজন অল্প সাহাবীর পুরো কুরআন মুখস্থ ছিল নবীজীর এই নারী সাহাবী তাদের একজন ছিলেন। তিনি অন্যদের কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং তার বাড়ির বাইরে দিয়ে যাওয়ার সময় তিলাওয়াত শোনা যেত।

Tagged