http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/In-the-Quran-Hindus-voted-Hafez-as-village-head.jpg

কোরআনে হাফেজকে ভোট দিয়ে গ্রামপ্রধান করলেন হিন্দুরা

ইসলাম

ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক অযোধ্যা জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে একটি গ্রামের বাসিন্দারা। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইম অব ইন্ডিয়া এবং হিন্দুস্থান টাইমস মঙ্গলবার (১১ মে) এক প্রতিবেদনে জানায়, অযোধ্যা জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু প্রধান গ্রাম রাজানপুরের বাসীন্দারা পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রাম প্রধান হিসেবে এক আলেমকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।

ওই গ্রামের একমাত্র মুসলিম পরিবার ওই আলেম হাফেজ আজিমের। সম্প্রতি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাফেজ আজিমসহ ৮ জন ব্যক্তি প্রার্থী হন। এর মধ্যে হাফেজ আজিম বাদে ৭ জনই হিন্দু ব্যক্তি। ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, সর্বাধিক ২০০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আজিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে তিনি ৮৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।

হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, হিন্দুপ্রার্থীরা গ্রামবাসীদের পেনশন এবং প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম যোজনার আওতায় প্রত্যেকে একটি বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও গ্রামবাসীরা হাফেজ আজিমকেই প্রধান হিসেবে বেছে নেন। আজিম পেশায় একজন কৃষক। তিনি একটি মাদ্রাসায় আলিম এবং হাফিজ ডিগ্রী লাভ করেন। প্রায় ১০ বছর পড়াশোনা শেষে পারিবারিক কৃষি পেশায় যোগ দেন তিনি।

এদিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে আলোচনায় আসা হাফেজ আজিম গণমাধ্যমকে তার জয়কে ঈদ উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ গ্রামের প্রায় সবাই বলতে গেলে হিন্দু। তারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন বলে আমি তাদের ওপর কৃতজ্ঞ।

এদিকে এ গ্রামের এক বাসিন্দা শেখর সাহু বলেন, প্রার্থীরা কে কোন ধর্মের তা দেখে আমরা ভোট দেয়নি। আমরা ভোট দিয়েছি এই ভেবে কিসে আমাদের ভালো হবে। আমরা কট্টোর হিন্দু। কিন্তু আমরা আমাদের গ্রাম প্রধান হিসেবে একজন আলেমকে বেছে নিয়ে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হাজার বছর ধরে চলে আসছে তাই শুধু পাথেয় মনে করেছি।

               ফ্রি কুইজে অংশগ্রহণ করে জিতে নিন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার

এদিকে হাফেজ আজিমের জয়ে অযোধ্যা মসজিদ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এ জয় ভারতবর্ষের বহুত্ববাদের প্রকাশ। হাফেজ আজিমের এ জয় শুধু রাজানপুর গ্রামের হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি উদাহরণ নয়, এটি এ ঐতিহাসিক অযোধ্যা নগরী এবং ভারতবর্ষের উদাহরণ। এ দৃষ্টান্ত আমাদের দুই ধর্মের মানুষদের হাতে হাত মিলিয়ে সব অন্ধকার দূর করে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

Tagged