http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/02/হটাৎ-শিশুর-শরীরে-গজাচ্ছে-পশুর-লোম.jpg

হটাৎ শিশুর শরীরে গজাচ্ছে পশুর লোম!

ফিচার

সাড়ে তিন বছর বয়স শিশু কন্যা তাসফিয়ার। ফুটফুটে সুন্দর এ শিশু কন্যাটি পোশাক-সাজগোজ পরে ঘুরলে অন্য পাঁচটি শিশুর মত স্বাভাবিক লাগে। শুধু পোশাক পড়লে স্বাভাবিক লাগলেই তো হবেনা। শিশুটি পোশাকের ভিতরে এক বিরল যন্তণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। কুরে কুরে খাচ্ছে তাকে ও তার পরিবারকে। হটাৎ শিশুর শরীরে গজাচ্ছে পশুর লোম!

কারণ শিশু তাসফিয়া জন্মের পর থেকেই শরীরে গজাচ্ছে পশুর লোম। আক্রান্ত হচ্ছে এক অন্য বিরল রোগে। এখন তার শরীরের চার ভাগের তিন ভাগ পশুর লোমের ঘিরে ফেলেছে।

শিশুকন্যা তাসফিয়া জাহান (মনিরা) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার গোডাউন পাড়ার মাসুদুজ্জামান মামুনের ছোট কন্যা।

মামুন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। অর্থ অভাবে তার ফুটফুটে শিশু কন্যার চিকিৎসা করাতে পারেনি তিনি। শিশু তাসফিয়ার বাবা মামুন জানান, জন্ম থেকেই তার সারা শরীর লম্বা লম্বা পশমে আবৃত। এখন গোটা শরীরজুড়ে বিস্তার ঘটছে, এমনকি মুখের মধ্যেও।

পিঠের ছোট্ট একটি টিউমার থেকে এটির উৎপত্তি হতে পারে বলে তাদের ধারণা। তিনি আরো জানান, জন্মের মাত্র ছয় দিনের শিশুকন্যা তাফিয়াকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছি।

সেখানে চিকিৎসকদের একটি দল মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে তাঁরা এটিকে বিরল চর্ম রোগ হটাৎ শিশুর শরীরে বলে সনাক্ত করেছেন এবং শিশুটির অন্তত ৩/৪ বছর বয়স হলে উন্নত চিকিৎসার করার জন্য ঢাকা অথবা ভারতে নিয়ে যাওয়া পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্ত দিন মুজুর রাজমিস্ত্রি কাজ করে তাকে আর চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন জনান, গরমের দিনে শিশুর শরীর থেকে আগুনের মত তাপ বের হতে থাকে। দিনে ২/৩ বার গোসল করাতে হয়।

ভিজে কাপড় পরিয়ে দিনরাত ফ্যানের নীচে রাখতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে সব সময় পাখার বাতাস করতে হয়।

তানজিলা খাতুন আরো জানান, ডাক্তাররা বাচ্চাটিকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রাজমিস্ত্রী বাবার সামর্থ্য নেই তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা করানোর জন্য।

তাই আমরা স্থানীয় ভাবে হোমিও চিকিৎসা করাতে থাকি। হোমিও চিকিৎসা করানোর পরে তার শরীরে কোন উন্নতি হয়নি। বরং আরো লোম গজাচ্ছে বেশি। তাইতো এই ছোট্ট মেয়েটার পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন