Http://igeneration. Com. Bd/wp-content/uploads/2021/03/একটি-কৃত্রিম-পা-হলেই. Jpg

একটি কৃত্রিম পা হলেই বাঁশ থেকে মুক্তি মিলবে শিশুটির

সারা বাংলা

জন্মের ক’বছর যেতে না যেতেই জীবনের রঙ ফুরিয়ে যেতে বসেছে ছোট্ট হাবিবার। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে এক পায়ে বাঁশ বেঁধে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে শিশুটিকে। পায়ে বাঁশের টুকরো নিয়ে হাবিবাকে যাপন করতে হচ্ছে দুঃসহ জীবন। একটি কৃত্রিম পা হলেই বাঁশ থেকে মুক্তি মিলবে শিশুটির।

এ বয়সে পাখির মতো ডানা মেলে ছোটার কথা তার। দৌড়ঝাঁপ আর উল্লাসে অবিরাম ছুটে চলার কথা খেলার সাথীদের নিয়ে। অথচ এক পায়ে বাঁধা বাঁশ নিয়ে জীবন টেনে নিতে হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ৬ বছরের শিশু হাবিবাকে।

একটি দুর্ঘটনা থামিয়ে দিয়েছে শিশুটির জীবনের গতি। তাকে নিয়ে চরম হতাশায় পরিবার। সামান্য কিছু টাকার অভাবে কৃত্রিম পা লাগাতে পারছে না বাবা-মা।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বাদলা গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে হাবিবা। বাবা রিকশা চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালান।

হাবিবার বয়স তখন তিন বছর। নানীর সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় হাবিবার এক  একটি কৃত্রিম পা পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই থেকে শুরু কষ্ট নামক গল্পের।

স্বাভাবিকভাবে চলতে শিশু হাবিবার একটি কৃত্রিম পা দরকার। ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হলেই হতে পারে হাবিবার সেই স্বপ্নপূরণ। কিন্তু হাবিবার পরিবারের কাছে এটাই অনেক বড় বোঝা।

তবে তার বাবা-মার বিশ্বাস তাদের প্রিয় সন্তানের পাশে কেউ না কেউ অবশ্যই দাঁড়াবে। আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে ৬ বছরের একমাত্র সন্তান হাবিবা।

হাবিবা জানায়, বাঁশ বেঁধে হাঁটতে তার অনেক কষ্ট হয়। তার মন চায় হাঁটতে, খেলতে, স্কুলে যেতে, কিন্তু সে পারে না।

হাবিবার বাবা নুরুল আমিন বলেন, রিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। মেয়ের চিকিৎসার টাকা পাব কোথায়? মেয়ের চিকিৎসা ও একটি পা লাগাতে পারলে মেয়েটা একটু শান্তি পেত।

ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতিশ দাস রাজীব জানান, সোমবার (১ মার্চ) শিশু হাবিবাকে নিয়ে হাসপাতালে এসছিল তার বাবা। তার পায়ের অবস্থা দেখেছি। মেয়েটির জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে হাসপাতাল থেকে।

তিনি জানান, হাবিবার পায়ের বাঁশ খুলে আপাতত প্লাস্টিকের একটি শেল্টার লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। কৃত্রিম পা লাগানোর বিষয়ে ঢাকা মেডিকেলসহ বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করছি।