বহুরূপী ডিজে নেহার পরিবার, বাবা-মায়ের পরিচয় আলোচনার মুখে!

সারা বাংলা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ভুক্তভোগীর বান্ধবী ফারজানা জামান ওরফে ডিজে নেহা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অন্ধকার জগত সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। রোববার রিমান্ডের তৃতীয় দিনে নেহার ফোনবুকে পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ডজনখানেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর নাম্বার পেয়েছে। যেগুলো সাংকেতিকভাবে সংরক্ষণ করা।

এসব ধনাঢ্যদের অনেকের কাছে মদ, তরুণী সরবরাহ করতেন তিনি। কখনও কখনও নেহা নিজেই তাদের সঙ্গ দিয়েছেন। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারের পর শুক্রবার ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নেহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

নেহার পরিবার:

নেহার মায়ের জন্ম ১৯৮৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। নেহার বাবা মারা গেলে তিনই আরেকটি নতুন বিয়ে করে। যিনি পরনারী আসক্ত ছিলেন, লোক হিসেবে অনেক খারাপ ছিলেন। এতে অস্বাভাবিক রকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন নেহার মা। দ্বিতীয় স্বামী নেহার মাকে, নেহাকে এবং নেহার ছোট বোনকে প্রচণ্ড মারধর করতেন, পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনও করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নেহার প্রকৃত নাম কোনটি?

নেহার পুরো নাম ‘ফারজানা হক’ পাওয়া গেছে। যা নেহার মা’ই একটি ডকুমেন্টে লিপিবদ্ধ করেছেন। একই ডকুমেন্টে নেহার মা তার ছোট মেয়ের নাম লিখেছেন ‘আনিকা হক’। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী মাধুরী এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরেক তরুণ আরাফাত মারা যাওয়ার পর একটি মামলা দায়ের হয়। যে মামলার বাদি মাধুরীর বাবা। মামলাটি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হয়। সেখানে নেহার পুরো নাম পাওয়া যায় ফারজানা হক।

নেহার মা কে?

বর্তমানে মিরপুর-২ এর আহম্মেদনগরের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করছে। তারা এ বাসায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে উঠেন। এই বাসায় নেহার মা পুলিশের ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরমে নিজের নাম লিখেছেন ‘ফারহানা মজুমদার’ যা জাতীয় পরিচয় পত্রের সাথে মিলে যায়।

নেহার প্রকৃত বাবা কে?

অনুসন্ধান বলছে নেহার বাবার নাম ‘মোজাম্মেল হক’। তিনিই আসলে নেহার বাবা বা তার মায়ের বিয়ে করা স্বামী নয়। এই ব্যক্তি চট্টগ্রামে থাকেন, মাঝে মাঝে নেহাদের বাসায় আসেন।

ওই সময়ে নেহার মা জানান যে, তার স্বামী চট্টগ্রামে ইনকাম টেক্স নিয়ে কাজ করা একজন অ্যাডভোকেট। অনুসন্ধান বলছে, দীর্ঘদিন যাবত নেহার মায়ের সঙ্গে এই ব্যক্তির অবৈধ সম্পর্ক চলমান রয়েছে। এদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তথ্য পেয়েছে, নেহার জন্মদাতা বাবা মি. জামান রাজধানীর আজিমপুরে থাকেন এবং পুরান ঢাকায় ব্যবসা করছেন। তার সঙ্গে নেহার মায়ের দূরত্ব চলছে দীর্ঘদিন যাবত।

নেহা বিপথে যাওয়ার পেছনে পরিবারের যে ভূমিকা:

খুব সাধারণ ‘নেহা’ থেকে ‘ডিজে নেহা’ হয়ে ওঠার পেছনের ঘটনা খুঁজতে এক পর্যায়ে কথা হয় নেহার বড় খালা শাহানাজ পারভীনের সঙ্গে। তিনি বলেন নেহাকে আমি কোলে পিঠে করে বড় করেছি। ছোট বেলা থেকেই নেহা খুবই সহজ সরল প্রকৃতির মেয়ে। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে, এর পেছনে কোন পুরুষ মানুষতো অবশ্যই জড়িত আছে। নেহার এমন পথে পা বাড়ানোর পেছনে দায়িত্বের ক্ষেত্রে মায়ের কোনো অবহেলা ছিলো না, তবে বাবার অবহেলা আছে। বাবা খুব টর্চার করতো মেয়েটাকে।

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আসলে মেয়েটার কোনো দোষ নেই। বাবার অবহেলা আর অবজ্ঞার কারণেই পুরুষবিহীন সংসার ছিলো আমার বোনের।

নেহার খালা আরও বলেন, অভাব অনটনের কারণে নেহার ছোট বোন আনিকা আমার কাছেই বড় হয়েছে। তাকে আমি বড় করেছি। সে এখনও পড়াশোনা করছে।

বোন জানে না বোনের স্বামী কে!

বড় বোন শাহনাজ পারভীন স্বামীর নাম পরিচয় দিতে নারাজ তার বোন ফারহানা মজুমদারেকে।  বোনের স্বামীর নাম জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বর্তমান বাসার ভাড়াটিয় তথ্য নিবন্ধন ফরমে স্বামী হিসেবে উল্লেখ থাকা ‘মোজাম্মেল হক’ এর বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হয়ে বলেন, ‘আমিতো যশোরে থাকি। তার বিষয়ে তো বলতে পারছি না।

নেহার মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্রের বয়স নিয়ে সন্দেহ:

নেহার মা ১৯৮৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহণ করেছেন। সে হিসেবে আজ পর্যন্ত ওনার বয়স ৩১ বছর ৪ মাস ৮ দিন চলছে। অন্যদিকে মামলার এজহারে নেহার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মেয়ের সাথে মায়ের বয়স মাত্র ৬ বছর পার্থক্য। এরমধ্যে নেহার ছোট একটি বোনও রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, মাত্র ৬ বছর বয়সে কেমন করে তিনি সন্তান জন্মদান করলেন? এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা মনের করছেন তিনি হয় বয়স লুকিয়েছেন, অন্যথায় ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে যে ভোটার আইডি’র ফটোকপি যুক্ত করেছেন, তা ভুয়া বা জাল।

পুলিশের বক্তব্য:

৮ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট মামলার হালনাগাদ তথ্য জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাজেদুল হককে কল দেওয়া হলে তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, এই মামলার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। যা বলবেন স্যাররাই বলবেন। এরপর সন্ধ্যা ৬ টা ১১ মিনিটে কল দেওয়া হয় তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদকে। তবে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।