http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/06/The-facilities-in-the-model-mosque-including-the-library-guest-house.jpg

লাইব্রেরি অতিথিশালাসহ মডেল মসজিদে থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা

সারা বাংলা

দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে নির্মিত ৫০টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লাইব্রেরি অতিথিশালাসহ মডেল মসজিদে থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একসঙ্গে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত এসব মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একসঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণের ঘটনা বিশ্বে বিরল বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে, শুধু নামাজ আদায় নয়, মসজিদ হবে ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার গবেষণা কেন্দ্র। হারিয়ে যাওয়া ইসলামের চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করে দৃষ্টিনন্দন এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার।

প্রথম ধাপে নির্মিত মডেল মসজিদগুলো উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমি সত্যি খুব আনন্দিত। মডেল মসজিদগুলো থেকে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী প্রচার হবে, ইসলামের সঠিক প্রচার হবে। ইসলামের সঠিক জ্ঞানচর্চা হবে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় মুসলমানরা আবারও এগিয়ে যাবে।

রাজধানী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের এই প্রথম কোনো দেশের সরকার প্রধান একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করছে। এর আগে কোনো মুসলিম শাসক বা সরকার প্রধান এক সঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণ করেননি। এটি একটি অনন্য এবং যুগান্তকারী ঘটনা আমরা বলবো।

আরব বিশ্বের মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের আদলে এসব মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষের আলাদা অজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি, গবেষণাকেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয়কেন্দ্র, কোরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষাকেন্দ্র ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থাকবে।

এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর তিন ক্যাটাগরিতে এই মসজিদগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে চারতলা, উপজেলার জন্য তিনতলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এটাই হচ্ছে বিশ্বে প্রথম কোনো সরকারের একই সময়ে এত বিপুলসংখ্যক মসজিদ নির্মাণের ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে ইসলামকে পুরোপুরি জানার ফলে ধর্মান্ধতা, উগ্রতা ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আলেম-ওলামারা।

Tagged