http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/06/The-body-of-the-housewife-was-left-at-the-hospital-by-the-in-laws.jpg

গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে পালাল শ্বশুরবাড়ির লোকজন

সারা বাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরের মেড্ডা এলাকায় ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার পর তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে পালাল শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

জানা যায়, পাঁচ বছর আগে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আইয়ুব আলী খানের ছেলে মোটর পার্টস ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার সঙ্গে কসবা উপজেলার বাদুইর গ্রামের মো. ফারুক মিয়ার মেয়ে মাকসুদা সুলতানা ঝিনুকের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মেড্ডা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। আরিয়ান নামে তাদের তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শাশুড়িসহ স্বজনরা প্রায়শই তার ওপর নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নির্যাতিতা গৃহবধূ তার পরিবারের কাছে এ বিষয়ে জানান। এই নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিসও হয়।

নিহতের বড় বোন তানিয়া আক্তার বলেন, সকালে নির্যাতনের পর বোনকে হত্যা করে লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকেরা। লোক মাধ্যমে আমাদের জানানো হয় বোন আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, যৌতুকের জন্য ঝিনুককে তার স্বামী, শাশুড়ি, ননদ মিলে নির্যাতন করতেন। এছাড়া আগে ছাড়াছাড়ি হওয়া তার স্ত্রীর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কে জড়ায়। এ নিয়ে কথা বললে বোনকে নির্যাতন করতো তার স্বামী সোহেল মিয়া।

নিহতের খালা লাকি আক্তার বলেন, এর আগেও ঝিনুকের স্বামী সোহেল মিয়া আরো একটি বিয়ে করেছিলেন। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তার আগের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়। তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর আমার বোনের মেয়েকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে ৩ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে নির্যাতন করে বোনের মেয়েকে হত্যা করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদ ইবনে আনোয়ার হোসেন বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। নিহতের স্বজনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tagged