http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/06/The-father-wanted-to-see-his-only-daughter-Tushti-as-a-BCS-officer.jpg

একমাত্র মেয়ে তুষ্টিকে বিসিএস অফিসার দেখতে চেয়েছিলেন বাবা

সারা বাংলা

তুষ্টি, বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়ুয়া একজন ছাত্রী। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ সকলেই। একমাত্র মেয়ে তুষ্টিকে বিসিএস অফিসার দেখতে চেয়েছিলেন বাবা। কেউ মেনে নিতে পারছে না তার এই অপমৃত্যুকে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে হারিয়ে স্তব্ধ এলাকাবাসী।

অভিশপ্ত ৬ই জুন, রোববার সকালে রাজধানীর আজিমপুরের স্টাফ কোয়ার্টারের বাথরুম থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ইসরাত জাহান তুষ্টির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, তুষ্টির বাবা নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের নীলকন্ঠপুর গ্রামের মোঃ আলতাব উদ্দিন বলেন, ‘৩/৪ দিন আগে আমার মেয়ে ভাড়া বাসায় উঠে। তার সাথে নেত্রকোনার আরো কয়েকজন মেয়েও ছিল। দিন কয়েক আগে ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথাও হয়েছিল। মেয়েকে বলেছিলাম, বিসিএস ক্যাডার হয়ে বাবা ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করতে।’কিন্তু মেয়েকে ঘিরে বাবার আশা আর পূর্ণ হল না। সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা আলতাব উদ্দিন। মা হেনা আক্তার শুধু তুষ্টি তুষ্টি বলে চিৎকার করে কাঁদছেন অঝোরে ।

তুষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তবে হল বন্ধ থাকায় আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেট থাকতেন।

ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ব্যারাক ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল প্রায় সোয়া ৭টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ইসরাত জাহান তুষ্টিকে আজিমপুরের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার ইউনিট ২-এর ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি বাথরুম থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, দুজন ছাত্রী মিলে স্টাফ কোয়ার্টারের ওই বাসায় সাবলেট থাকতেন। সকালে তার রুমমেট ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখতে পায় কিন্তু ভেতরে কল থেকে পানি পড়ার শব্দ আসছিল। এরপর ওই রুমমেট ৯৯৯- এর মাধ্যমে আমাদের খবর দিলে আমরা যাই। পরে ওই বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থতাজনিত কারণে সে বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এদিকে তার ঠান্ডাজনিত সমস্যা ছিল এবং গতকাল বৃষ্টিতে তিনি ভিজেছিল বলে জানতে পেরেছি।

তুষ্টির চাচা প্রভাষক ঈমাম হোসেন জানান, তার এই মৃত্যুতে কোন অভিযোগ না থাকলেও তদন্ত রিপোর্ট আসার পরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবো তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, তুষ্টি আটপাড়া উপজেলার ধর্মরায় রামধনু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এরপর মদন উপজেলার জোবাইদা রহমান মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ-৫ নিয়ে এইচ এস সিতে উত্তীর্ণ হন। তুষ্টির বড়ভাই মাসুদ মিয়া সৌদি আরবে চাকরি করেন। আরেক ভাই তুর্জয় মিয়া অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে, সবচেয়ে ছোট ভাই মাহির বয়স ছয় বছর। বাবা আলতাব হোসেনের ব্যবসা ধান চালের।

Tagged