http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/06/Alamin-took-Tania-to-India-as-his-wife.jpg

তানিয়াকে স্ত্রী পরিচয়ে ভারতে নিয়ে যায় আলামিন

সারা বাংলা

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভাইরাল ভিডিওতে টিকটক হৃদয় বাবুর সহযোগী যশোরের আলামিন নামের এক যুবক রয়েছে। তার বাড়ি যশোর শহরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকায়। তানিয়াকে স্ত্রী পরিচয়ে ভারতে নিয়ে যায় আলামিন। এ ছাড়া ভিডিওতে থাকা লাল ফুলহাতা টপস পরা মেয়েটির নাম তানিয়া। তার বাড়ি যশোরের অভয়নগরে। তানিয়াকে আলামিন স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভারতে নিয়ে গেছে।

ভিডিও প্রচার হওয়ার পর আলামিনের বাড়ির এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করলেও তাদের দাবি- আট মাস আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। আলামিন (২৪) যশোরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার ভ্যানচালক মনু মিয়ার ছেলে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মনু মিয়া বলেন, আলামিন ভালো না। বাইরে থেকে আলামিনের কাছে লোক আসত। ঘরে বসে তারা কিসব (ইয়াবা) খেত। তাই আট মাস আগে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। শুনেছি আলামিন ইনডিয়া গেছে, তার বউ বাপের বাড়ি। সেখানে সে কী করছে জানি না, তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আগে থেকেই বেপরোয়া আলামিন দেশে দুটি বিয়ে করেছে। দুই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের ফেলে সে ভারতে চলে যায়। ভিডিওতে সে গোলাপী ফুলহাতা গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরিহিত এবং তার পায়ে কালো রাবারের ব্যান্ড রয়েছে।

এদিকে তানিয়ার পরিচয় ও তাদের বাড়ির খোঁজ মিলেছে। যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা শাহিদা বেগমের বখাটে কন্যা এই তানিয়া। তানিয়ার পিতা শাহাদাৎ হোসেন পাশের গ্রাম ভাটপাড়ায় বসবাস করেন। সোমবার সকালে সরেজমিন তানিয়ার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে তাদের বসতঘরটি।

এলাকাবাসী তাদের বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তানিয়া তার মা শাহিদা বেগম ও ছোটবোন বৃষ্টিকে নিয়ে এই গ্রামেই বসবাস করতেন। মেয়েটি নাচগানের পাশাপাশি বখাটে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে উঠাবসা করত দীর্ঘদিন। যার কারণে এলাকাবাসী তাদের পছন্দ করত না। তাছাড়া তানিয়াকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তানিয়ার মা ও ছোটবোনকে র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে র‌্যাব সদস্যরা তাদের আটক করেছে কিনা তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) বেলাল হোসাইন বলেন, ভারতের তরুণী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনা জেনেছি। তবে ওই ঘটনায় জড়িত একজনের বাড়ি যশোরে বলে শুনেছি। এলাকাবাসী ছবি দেখে শনাক্তের দাবি করছেন। আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। একই সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তাও আমাদের কিছু জানাননি।

Tagged