http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/Anvir-gave-an-ultimatum-to-Munias-sister-to-hold-a-secret-meeting.jpg

গোপন বৈঠক করতে মুনিয়ার বোনকে আল্টিমেটাম দিলেন আনভীর

সারা বাংলা

দেশের অন্যতম চাঞ্চল্যকর ঘটনা কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার। ২১ বছর বয়সী এই তরুণী গুলশানের ব্যয়বহুল ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। ঘটনাটি ‘হত্যা’ নাকি ‘আত্মহত্যা’ বিষয়টি এখনও উদঘাটন হয়নি। গোপন বৈঠক করতে মুনিয়ার বোনকে আল্টিমেটাম দিলেন আনভীর।

তবে এ ঘটনায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। সে সময়ে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযোগ ওঠে- ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াসহ মুনিয়ার আনুসাঙ্গিক খরচ বহন করতেন বসুন্ধরার সায়েম সোবহান আনভীর। বিনিময়ে তিনি যখন ইচ্ছে তখনই ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে সময় কাটাতেন। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

মুনিয়ার মৃত্যু ঘটনা ঘটে গত ২৬ এপ্রিল। ছোট বোনের মৃত্যুর ঘটনায় পরের দিন ২৭ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন নুসরাত জাহান তানিয়া। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর ও তার পরিবার। এক পর্যায়ে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা করোনার টিকা দেওয়া কথা বলে চার্টার্ড বিমানযোগে দুবাই চলে যায়। তবে তারা আজ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন কিনা সে তথ্য এখনও জানা যায়নি। আর সায়েম সোবহান আনভীরের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। যা এখনও কাটিয়ে উঠেতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা।

বিনিময়ে মামলা তোলার প্রস্তাব না মানায় ফেসবুকে কুৎসা:

অজ্ঞাত স্থান থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মামলার বাদি নুসরাতকে মামলাটি তুলে ফেলতে একের পর এক প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত নিজেই আরটিভি নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওইসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যে আনভীর তার লোকজনকে দিয়ে বিভিন্ন পেজ থেকে বুস্টিং করে কুৎসা ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নুসরাত।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেটে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব আপত্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তার কোনো সত্যতা নেই। এগুলো করা হচ্ছে আমাদেরকে মানসিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে আপত্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ায় আমরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। সমাজের সকলকে তো আমি একজন একজন করে সত্য বিষয়টি বলতে পারছি না, ফলে অনেকেই আমাদেরকে ভুল বুঝতেছে।

গোপন বৈঠক করতে ২৯ মে’র আল্টিমেটাম:

মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, আনভীর আমাদেরকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে, মামলা তুলে নিতে বলেছে। কিছুদিন আগে তার কাছ থেকে এক জীবনের জন্য মোটা অংকের টাকা নিয়ে আমাদেরকে অন্তত ৩ মাসের জন্য চুপ থাকতে বলেছিলো। এখন আবার আমাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করতে বিভিন্ন মাধ্যমে একের পর এক প্রস্তাব পাঠাচ্ছে বসুন্ধরার আনভীর। তবে, আমরা তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে অনড় আছি। আমি আমার বোনের হত্যার বিচারই চাই।

তিনি আরও বলেন, টাকার বিনিময়ে চুপ থাকার প্রস্তাব গত ২৯ এপ্রিল থেকে আসা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) একই ধরণের প্রস্তাব আসে। কিন্তু আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। এরপরও তারা প্রস্তাব পাঠিয়ে যাচ্ছে- ‘কোনো মিডিয়া কিংবা সিসি ক্যামেরা’ ছাড়া যেনো আমরা ২৯ মে এর মধ্যে গোপন বৈঠকে বসি অন্যথায় বড় ধরণের বিপদে পড়তে হবে আমাদের।

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কতদূর:

মুনিয়ার বোন বলেন আমরা পুলিশের কাছে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে বলা হয়েছে ‘এখনও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়নি। তবে , শিগগিরই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হাতেই পেলেই দেরি করবে না পুলিশ।

এদিকে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো মুনিয়ার মরদেহের ভিসেরা, ডিএনএ ও মাইক্রোবায়োলজির পরীক্ষার রিপোর্ট প্রস্তুত হয়নি বলে জানা গেছে। ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় একটু বেশি সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন কবে:

মুনিয়ার মৃত্যুতে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’ মামলার ময়না তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে কিনা এবং তা কবে দাখিল করা হবে? এমন প্রশ্ন করা হলে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান আরটিভি নিউজকে বলেন, ঘটনাটি আমারা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র প্রত্যেকটি বিষয় আমলে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় যে বা যারা’ই জড়িত থাকুক না কেনো, তাকে আইন ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমাদের উর্ধ্বতন পর্যায় থেকেও এমনটিই নির্দেশনা রয়েছে।

Tagged