http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/The-committee-investigating-the-owner-of-the-4-storey-building-called-333.jpg

৩৩৩ নাম্বারে ফোন দেয়া সেই ‘৪ তলা ভবনের মালিকের বিষয়ে তদন্ত কমিটি

সারা বাংলা

বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী, প্রতিবন্ধী ছেলে। তিনি নিজেও ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কোনো কাজ করতে পারেন না। লকডাউনের কারণে সংসার আর নিজের চিকিৎসা নিয়ে বেশ বেগ পোহাচ্ছিলেন এই বৃদ্ধ। কিন্তু ৩৩৩ নাম্বারে ফোন দেয়া প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য অনেক খাদ্য পাওয়ার আশায় ফোন করাটাই যেন কাল হলো ফরিদ উদ্দিনের।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সত্য ঘটনা উদঘাটনে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। এ পুরো ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম বেপারীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আগামী বুধবারের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে ঋণ করে ১০০ দরিদ্রকে ত্রাণ দেয়ার পুরো খরচটি পেতে যাচ্ছেন ৩৩৩ নাম্বারে ফোন দিয়ে খাদ্য সহায়তা চাওয়া সেই বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনকে এই পুরো ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

তবে উপজেলা প্রশাসন ঠিক কোন খাত থেকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে যাচ্ছে সেটি নিশ্চিত করতে পারেননি ইউএনও আরিফা জহুরা। জানা গেছে, জাতীয় হটলাইন ৩৩৩ নাম্বারে কল করে খাদ্য সহায়তা চাইলেও খাবার পাননি ফরিদ উদ্দিন। গত বৃহস্পতিবার উল্টো সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে তাকে ১০০ জনকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হয়েছে। কারণ স্থানীয় ইউপি মেম্বার আইয়ুব আলীর দেয়া তথ্যমতে ফরিদ উদ্দিন বনে যান কথিত ‘৪ তলা বাড়ির মালিক ও সচ্ছল’ ব্যক্তি।

কিন্তু শনিবার ১০০ জন দরিদ্রকে ত্রাণ নিতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে উঠে আসে অসুস্থ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ফরিদের আসল অবস্থা। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসলে শুরু হয় তোলপাড়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ রোববার জানিয়েছেন, ফরিদ উদ্দিনের পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। যদিও পূর্বে তিনি তার আর্থিক অবস্থার সঠিক তথ্য দেননি, তারপরও তাদের যে পরিমাণ খরচ হয়েছে সেসব ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা এখান থেকে (জেলা প্রশাসক কার্যালয়) দিচ্ছি না। বিষয়টা উনার (ইউএনও) তাই উনি কোনো না কোনো চ্যারিটেবল ফান্ড থেকে দিয়ে দেবেন। উনার অনেক ফান্ড থাকে, তবে আমি জানি না ঠিক কোন ফান্ড থেকে দেয়া হবে। তাছাড়া খাদ্য সহায়তা পাওয়া সবাই দরিদ্রই ছিল, সেটার মিস ইউজ তো হয়নি। কিন্তু সবার আগে প্রয়োজন সেই অসহায় লোকটির পাশে দাঁড়ানো।

এদিকে এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা রোববার বিকালে জানিয়েছেন, আসলে গণমাধ্যম কর্মীদের কারণেই ফরিদ উদ্দিনের প্রকৃত চিত্রটি যাচাই করতে পেরেছি। তিনি আসলেই প্রকৃতভাবে দরিদ্র। কিন্তু তিনি যদি সেদিন বিষয়গুলো, তার কথাগুলো বলতেন- তাহলে এ সমস্যাটিতে পড়তে হতো না। আসলে স্থানীয় মেম্বার যেভাবে বলেছিল এবং ওই দিন ফরিদ উদ্দিনের নিজের কথার কারণেই আমরা ১০০ জনকে খাদ্য সহায়তার কথা বলেছিলাম। সোমবারের মধ্যে ফরিদ উদ্দিনকে তার ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেয়া হবে।

তবে কোন ফান্ড থেকে এ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও আরিফা জহুরা বলেন, আমি দেখছি। আমাদের উপজেলা প্রশাসনে বিভিন্ন চ্যারিটি ফান্ড রয়েছে, তাছাড়া স্থানীয় কোন দানশীল ব্যক্তিও যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, দান করতে চান সেভাবেও সাহায্য করা হবে।

উল্লেখ্য, বাবার রেখে যাওয়া ভবনের তৃতীয় তলার এক পাশের ছাদে টিনশেডের দুটি ছোট্ট কামরায় প্রতিবন্ধী ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন ফরিদ উদ্দিন (৫৭)। একটি হোসিয়ারি দোকানে চাকরি করে মাসে ১০ হাজার টাকা বেতনে কোনোমতে চলে তার সংসার। মাসতিনেক আগে ব্রেইন স্ট্রোক করে বাম চোখের দৃষ্টি হারানোর পাশাপাশি কথাবার্তাও খুব একটা গুছিয়ে বলতে পারেন না তিনি।

ফরিদ উদ্দিনের সরকারি হটলাইনে ফোন করে সাহায্য চাওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিলেন মেম্বার আইয়ুব আলী। এ তথ্য পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত বৃহস্পতিবার হাজির হয়ে ১০০ দরিদ্রকে ত্রাণ দিতে বলেছিলেন ফরিদ উদ্দিনকে। এ ত্রাণের টাকা জোগাড় করতে নিজের আর ভাইয়ের স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বন্ধক দিতে হয়েছে তাকে। কষ্টে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছেন তিনি।

শনিবার বিকালে সেই ত্রাণ দিতে এসেছিলেন ইউএনও আরিফা জহুরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরাও। কিন্তু অসুস্থ ফরিদ উদ্দিন, তার স্ত্রী আর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলেকে দেখে তারাও ‘হকচকিয়ে’ যান।

Tagged