বিক্ষোভ করে বরিশালের সাংবাদিকদের কারাবরণের আবেদন

সারা বাংলা

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন জানিয়েছেন বরিশালের ২৫ সাংবাদিক। বরিশালের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর বার্তা সম্পাদকদের সংগঠন নিউজ এডিটরস কাউন্সিলের নেতৃত্বে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় যান। পরে তাঁরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে স্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন জমা দিয়ে থানার সামনে অবস্থান নেন।

পরে ওসি মো. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ওসি সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ধরনের অভিযোগ কিংবা মামলা ছাড়া নিরপরাধ কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করার আইনে বিধান নেই। এরপরও সাংবাদিকেরা ঘণ্টাখানেক থানার সামনে অবস্থান করেন।

স্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন করেন সাংবাদিক সৈয়দ মেহেদী হাসান, রিপন হাওলাদার, এম কে রানা, শামীম আহমেদ, মুশফিক সৌরভ, তন্ময় তপু, খান রুবেল, কে এম নয়ন, আল আমিন জুয়েলসহ ২৫ জন সাংবাদিক।

এদিকে রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে আজ সকালে সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। এতে বক্তব্য দেন, নারীনেত্রী রাবেয়া খাতুন, পুষ্প চক্রবর্তী, অধ্যাপক শাহ সাজেদা প্রমুখ।

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও নির্যাতনের বিচারের দাবিতে বরিশাল নগরে গত মঙ্গলবার থেকেই বিক্ষোভে অব্যাহত আছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি এই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বরিশাল নগর।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে গতকাল বিকেলে বরিশালে আরেক দফা বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। বরিশালে কর্মরত জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশন (এনডিবিএ) এই কর্মসূচির আয়োজন করে। বিকেল পাঁচটায় সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে প্রথমে সমাবেশ হয়, পরে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এতে গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন, প্রথম আলো বন্ধুসভাসহ বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। স্বাস্থ্য খাতের পাহাড়সমান দুর্নীতি চাপা দিতে লুটপাটকারী চক্রটি এই ষড়যন্ত্রের নায়ক। চক্রটি রোজিনা ইসলামের টুঁটি চেপে ধরে দেশের সব গণমাধ্যমকর্মীদের একটা অশুভ বার্তা দিতে চেয়েছে।

এখন সারা দেশের মানুষ ফুঁসে ওঠায় নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। রোজিনা ইসলামের বানানো, কাটছাঁট ভিডিও প্রকাশ করে এ ঘটনাকে জায়েজ করার অপচেষ্টার পাশাপাশি নামকাওয়াস্তে তদন্ত কমিটি করে দু-চারজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দপ্তর বদল করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশনের (এনডিবিএ) সভাপতি ও সমকালের ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জির সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের ব্যুরোপ্রধান আকতার ফারুক শাহিন, ৭১ টিভির ব্যুরোপ্রধান বিধান সরকার, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক এম জসীম উদ্দীন, ইত্তেফাকের শাহিন আজাদ, মানবজমিনের জিয়া শাহিন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দীন, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুল রশদি, ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ প্রমুখ।

Tagged