‘নিষিদ্ধ’ অ্যাপে জুয়া খেলে ১২০০ কোটি টাকা পাচার

সারা বাংলা

নাটোরের মেয়ে অনামিকা সরকার (২৪)। পড়াশোনা করেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে। সেখানে থাকতেই রোকন উদ্দিন সিদ্দিকীর সঙ্গে পরিচয়। এরপর তারা হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে পালিয়ে রাজধানীর বনশ্রীতে বাসা ভাড়া নিয়ে শুরু করেন অন্ধকারের জীবন। বিশেষ পদ্ধতিতে স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশেষ একটি জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে চলতো তাদের অবৈধ জুয়ার ব্যবসা। দেশে জুয়া খেলার এই অনলাইন অ্যাপটি নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ পদ্ধতিতে স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করতো তারা।

জুয়া খেলার অ্যাপ ‘স্ট্রিমকার’ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও ‘ভিপিএন’র মাধ্যমে ঠিকই ব্যবহৃত হচ্ছে। অ্যাপটি দেশে ব্যবহার-প্রসারে হাতেগোনা কয়েকজন জড়িত থাকলেও জেনে না বুঝে লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহার করছেন।

আর এ জুয়া খেলতে প্রয়োজন ডিজিটাল কারেন্সি বিন্স ও জেমস। দুটি ‘ডিজিটাল মুদ্রা’ কেনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে চক্রের মাধ্যমে শত কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। বছরে যা হাজার কোটিরও বেশি।

এমনই এক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। নোয়াখালীর ‍সুধারামপুর, ঢাকার সাভার এবং রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- কুমিল্লার জমির উদ্দিন, নোয়াখালীর মো. হোসেন রুবেল ও মনজুরুল ইসলাম হৃদয় এবং নাটোরের অনামিকা সরকার।

গ্রেফতাররা স্ট্রিমকার ব্যবহার করে মুদ্রাপাচার করে আসছিল বলে দাবি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের। স্ট্রিমকার অ্যাপে গ্রুপ চ্যাট, লিপসিং, ড্যান্স, গল্প, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়া খেলার অপশন রয়েছে। বাংলাদেশে এই অ্যাপটিসহ যেকোনো জুয়া, অনলাইন প্রতারণা আইনিভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রতারকরা এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে বছরে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

Tagged