http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/journalists-programs-in-different-places-demanding-unconditional-release-of-Rozina-Islam.jpg

রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের কর্মসূচি

সারা বাংলা

সচিবালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও দীর্ঘ সময় আটকে রেখে সাজানো মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। আজ মঙ্গলবার প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

কর্মসূচিতে অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। এ ছাড়া রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান ও পেশাগত দায়িত্বপালনে সব সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনযন্ত্রের সর্বোচ্চ স্থান হলো সচিবালয়। সেখানে একজন জ্যেষ্ঠ নারী সাংবাদিককে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক। প্রশাসনের গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজের মুখোশ উন্মোচন করে রোজিনা ইসলাম যে হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাতে তাঁর তৈরি করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো যে সঠিক ছিল, সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেই দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে সাংবাদিক রোজিনা এ দেশের জনগণের উপকার করেছেন। সচিবালয়ের মতো একটি জায়গায় একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ব্যবহারের কারণে এ দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে। রোজিনার মুক্তির দাবি শুধু সাংবাদিকদের দাবি নয়, গণমানুষের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমানুষের দাবি কখনো বৃথা যায় না।

বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হকের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন রাজশাহীর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, রাজশাহী সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি কাজী শাহেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন-অর-রশীদ, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাহী সদস্য জাবীদ অপু, সিনিয়র ফটোসাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, আরইউজের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে সকালে মানববন্ধন করেন সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির দুই অংশের সদস্যরা। এতে সংবাদকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এনাম আহমেদ, জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বিন্দু তালুকদার, সহসভাপতি কুলেন্দু শেখর দাশ, সাধারণ সম্পাদক মো. বোরহান উদ্দিন, জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ, সমাজকর্মী নাসিম চৌধুরী প্রমুখ। পরে একই স্থানে একই দাবিতে মানববন্ধন করেন সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির আরেক অংশের সদস্যরা। এখানে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির এই অংশের সভাপতি লতিফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরী, সদস্য শহীদ নূর আহমদ প্রমুখ।

দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা সমাবেশ করেন। এতে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ, একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স প্রমুখ।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। নোয়াখালীতে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে আয়োজিত এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলমগীর ইউসুফ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের জেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তারেকেশ্বর দেবনাথ (নান্টু), জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবুল হাশেম, উন্নয়ন সংগঠক নুরুল আলম (মাসুদ), প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন (বিষাদ), একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবু নাছের (মঞ্জু) প্রমুখ। চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি সুমন ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি শাহ এমরান সুজন, সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি সাইফুল্যাহ কামরুল, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান চৌধুরীসহ (কাজল) জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশগ্রহণ করেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে নেত্রকোনা সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমান খান, জেলা সুজনের সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল, আবদুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. দিলওয়ার খান, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ এমরান, জেলা উদীচীর সহসম্পাদক ও ছড়াকার সঞ্জয় সরকার, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি খলিলুর রহমান শেখ, এনটিভির প্রতিনিধি ভজন দাশ, মাইটিভির প্রতিনিধি আনিসুর রহমান, বাংলার নেত্র পত্রিকার সম্পাদক কামাল হোসাইন প্রমুখ।
রোজিনা ইসলামের আশু মুক্তি দাবি করে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী ও কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ফকরুল আলম বিবৃতি দিয়েছেন।

দুপুর ১২টায় বরগুনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বরগুনা প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. জাফর হোসেনের সঞ্চালনায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি জহিরুল হাসান বাদশা, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাফিজ, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবু জাফর মো. সালেহ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল, জেলা পাবলিক পলিসি ফোরামের সভাপতি ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু, সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল, উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থা জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মুখপাত্র আরিফুর রহমান মারুফ প্রমুখ।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবার সকালে জামালপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আজকের প্রতিবাদ সভায় জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান বলেন, রোজিনা ইসলামের ঘটনা প্রমাণ করে বর্তমানে কোনো সাংবাদিকই নিরাপদ নন। রোজিনাকে কারাগারে আটকে রেখে সাংবাদিকদের কলম বন্ধ করা যাবে না। জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, সাংবাদিক রোজিনা সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেকগুলো আলোচিত প্রতিবেদন করেছেন। এসব প্রতিবেদনের কারণেই রোজিনাকে হেনস্তা ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামালপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একজন সাংবাদিকের সঙ্গে যা করা হয়েছে, সেটা ন্যক্কারজনক। সাংবাদিকেরা এখন আর কেউ নিরাপদ নন। সেটা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়ে গেল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি জুলফিকার মোহাম্মদ জাহিদ, আলোচিত জামালপুর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সাযাযাদ আনসারী, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর ও সমকালের জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন মিন্টু, নিউজ পোর্টাল বাংলারচিঠি ডটকমের সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা মনজুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।

শ্রীপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীবৃন্দ ব্যানারে গাজীপুরের শ্রীপুরে মানববন্ধন কর্মসূচিতে রোজিনা ইসলামের হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ করা হয়। সভায় সমকালের গাজীপুর প্রতিনিধি ইজাজ আহমেদ বলেন, ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম তথ্য চুরি করে থাকলে আমিও চোর। আমিও তথ্য চুরি করেছি। আমার বিরুদ্ধেও মামলা হোক, আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক।’ সময় টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক রাজিবুল হাসান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা এমন রোজিনা ইসলাম কালেভদ্রে তৈরি হয়। তাকে হেনস্তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতিসত্বর রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দেওয়া হোক। প্রথম আলোর শ্রীপুর প্রতিনিধি সাদিক মৃধা বলেন, সত্য প্রকাশের চেষ্টাকে এভাবে প্রতিহত করা অত্যন্ত হতাশাজনক। রোজিনা ইসলামের কলম বন্ধ হওয়ার নয়, হবে না। দৈনিক ইনকিলাবের শ্রীপুর প্রতিনিধি আবদুল মতিন বলেন, রোজিনা ইসলাম অন্যায়ের খবরগুলো নিয়মিত লিখছিলেন। তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাবের মাধ্যমে হয়তো থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে থামানো যায়নি। ব্যর্থ হয়ে এ ধরনের অন্যায় কাজ করা হয়েছে।

সকালে বগুড়ার সান্তাহার প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম আম্বিয়ার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন প্রথম আলোর আদমদীঘি প্রতিনিধি খায়রুল ইসলাম, দৈনিক জনকণ্ঠের হারেজুজ্জামান, দৈনিক সমকালের রতন ইসলাম, ভোরের পাতার সাগর খান, ইনকিলাবের মনসুর আলী, ভোরের দর্পণের রবিউল ইসলাম, সাংবাদিক তোফায়েল হোসেন, আবুবক্কর সিদ্দীক, মমতাজুর রহমান, নয়ন ইসলাম, আবদুল মতিন প্রমুখ।

Tagged