http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/The-groom-came-to-get-married-on-the-back-of-an-elephant.jpg

হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে এলেন বর

সারা বাংলা

মনের মানুষকে বউ করে আনবে এই ভাবনায় প্রেমিকের চোখে ঘুম নেই। প্রিয় মানুষটির সাথে কলেজে পড়া অবস্থায় পরিচয়ের পর টানা আড়াই বছর প্রেম। তারপরে পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে হাতির পিঠে চড়ে এলেন বর প্রেমিকাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যেতে।

রোববার (১৬ মে) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত সগুনা ইউনিয়নের মাকড়শোন গ্রামে এমন বিয়ের উৎসব উদযাপন হয়। এ সময় বিয়ে বাড়ি দেখতে ভিড় জমায় এলাকার উৎসুক জনতা। বর মো. সাগর মণ্ডল (২৪) আসেন নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা বাহাদুর পাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার মণ্ডলের ছেলে।কনে তানজিলা আকতার বীথি (২৪) তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের মাকড়শোন গ্রামের তোজাম্মেল প্রামাণিকের মেয়ে।

জানা যায়, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজের ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাগর। কনে বীথিও পড়েন একইসঙ্গে। কলেজে পড়া অবস্থায় তাদের মধ্যে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের পরিণতি হিসেবে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসার সিদ্ধান্ত নেন। আর এই বিয়ের উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। রমজান মাসের শুরুর দিকে দু’জনেই তাদের অভিভাবকদের তাদের ভালোবাসার বিষয়টি জানান। তারপর দু’পরিবারের অভিভাবকরা কয়েক দফা বৈঠকের পর বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন ঈদের দু’দিন পর রোববার (১৬ মে)।

হাতির পিঠে চড়ে কনে আনতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা পরিবারকে জানান তারা। সন্তানের ইচ্ছা পূরণে বাবা আব্দুল জব্বার ৩০ হাজার টাকায় একদিনের জন্য একটি হাতি ভাড়া করে নিয়ে আসেন। দুপুরের দিকে হাতির পিঠে চড়ে বর সাগর মণ্ডল পেছনে সারিবদ্ধ বরযাত্রী নিয়ে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিকেল নাগাদ মাকড়শোন গ্রামের কনে তানজিলার বাড়িতে পৌঁছান। পরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার শেষে হাতির পিঠেই কনেকে সাথে নিয়ে যান বর।

বর সাগর মণ্ডল বলেন, ভালোবাসাকে অমর করতে কতজন কত কী করেন। আমার ও তানজিলার বিয়ে মনে রাখার মতো করতে আমাদের এটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আড়াই বছরের প্রেমের পর আমরা বিয়ে করলাম।

স্থানীয় সগুনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বাকী এমন বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের আয়োজন এ এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনা আর প্রথম। এ কারণে বিয়ে বাড়িতে বর-কনে ও হাতি দেখতে গ্রামের লোকজন ভিড় জমান।

Tagged