এটি খুব দুঃখজনক-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সারা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কৌশলগত জোট কোয়াড নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের মন্তব্যকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, যে কোনো দেশ নিজেদের অবস্থান জানাতে পারে; তবে বাংলাদেশ ‘নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ’পররাষ্ট্রনীতির আলোকেই সিদ্ধান্ত নেবে।

মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নেপালের কাছে ওষুধ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) হস্তান্তরের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমরা নির্ধারণ করবো। চীনের রাষ্ট্রদূত আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোয়াড নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দেশের স্বার্থ চিন্তা করেই বাংলাদেশ কোয়াডে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ড. মোমেন বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত কোয়াডে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ বাড়িয়ে বলেছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, এখানে কারও হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমরাই ঠিক করব, চীনা রাষ্ট্রদূত কী বললেন সেটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন‘ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড’ (কোয়াড্রল্যাটারাল সিকিওরিটি ডায়ালগ) নামে এই কৌশলগত জোটের সংলাপের সূচনা হয়। মূলত চীনকে ঠেকাতেই এই উদ্যোগ।

গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, কোয়াডে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত জোট কোয়াডকে চীনবিরোধী একটি ছোট গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং। তাই চীন মনে করে, এতে যেকোনোভাবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে ‘যথেষ্ট খারাপ’ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন চার জাতির জোট কোয়াডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যকে দুঃখপ্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনারা কখনও কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায় না। এটি খুব দুঃখজনক, এটি খুব দুঃখজনক। আমরা কি করবো না করবো এটি অন্যরা বড় করে বলতে পারে না। যে কোনও দেশ তাদের মতামত দিতে পারে, আমরা তা শ্রদ্ধার সঙ্গে শুনবো। তবে আমরা কি করবো না করবো, জনগণের কথা বিবেচনা করে সে বিষয়টি আমরা নির্ধারণ করবো এবং সিদ্ধান্ত নেবো।

Tagged