http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/গণপরিবহনে-শুধুই-নির্দেশনা-তদারকির-কেউ-নেই.jpg

গণপরিবহনে শুধুই নির্দেশনা, তদারকির কেউ নেই

সারা বাংলা

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষিত লকডাউন শিথিল করে পাঁচ নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা শহরের বাস চালানোর অনুমতি দিলেও চালকরা তা মানছেন না। বাসের অর্ধেক সিট ফাঁকা না রেখে ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বাস চালানো হচ্ছে। সড়কে পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত নির্দেশনাগুলো অমান্য করলেও তদারকির যেন কেউ নেই।

লকডাউনের ২২ দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরে গতকাল সড়কে চলাচলের অনুমতি মিললেও আগের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিধিনিষেধের পর বাস চলাচলের দ্বিতীয় দিনেই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না পরিবহন চালকরা। গাড়িতে অর্ধেকের বেশি যাত্রী, অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও ও জীবাণুনাশক স্প্রে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ গণপরিবহন চলাচলে গত বুধবার (৫ মে) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দফা নির্দেশনা হয়।

নির্দেশনাগুলো হলো- আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের (৫০%) বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না, কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার (বিদ্যমান ভাড়ার ৬০% বৃদ্ধি) অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে, পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হলেও সকালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আন্তঃজেলা বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর রুটে বাস চলাচল করছে। আর গাবতলী, গুলিস্তান, পল্টন ও উত্তরায় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণরোধে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সারা দেশে লকডাউনে ব্যক্তিগত পরিবহন ও গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঠিকই চলেছে। শুধু বন্ধ ছিল গণপরিবহন। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়। সম্প্রতি দোকানপাট, শপিং মল ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা হয়। লকডাউনের সময় আরেক দফা বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। লকডাউনের মেয়াদ বাড়লেও মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে দোকানপাট-শপিংমল ও গণপরিবহন চালু করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাজধানীর গুলিস্তান, নিউ মার্কেট, পল্টন, মগবাজার, মালিবাগ, মহাখালী, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুর সকাল ও সন্ধ্যায় দিকে বাসে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকলেও আজ শুক্রবার (৭ মে) সকাল, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সড়কে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদের কেনাকাটায় জন্য সকালে যারা রাস্তায় বের হয়েছে, তারাই বাসের জন্য অপেক্ষা করেছে। বিকেলের পর থেকে সেই চাপ আবারও বাড়তে থাকে সঙ্গে যানজটও।

লকডাউন শিথিল করে গত বুধবার (৫ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, সেখানে শুধুমাত্র জেলার মধ্যে গাড়ি চলতে পারবে। আন্তঃজেলা বাসের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে যাত্রীবাহী ট্রেন ও নৌযান চলাচল।

শুক্রবার সকালে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশ এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদীগামী বাস চলতে দেখা গেছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চলাচল করে দোয়েল পরিবহন। এই পরিবহনে প্রতিটি আসনে যাত্রী পরিবহন করছে। যাত্রী-চালকদের মুখে মাস্ক থাকলেও বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার দেখা যায়নি।

বাস চালকরা বলছেন, ঘরমুখো মানুষের চাপ বেশি। নিষেধ করলেও যাত্রীরা বাসে উঠেছেন। এছাড়াও অনেক যাত্রী নিয়ম অনুযায়ী ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া দিতে চান না। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডাও হয়। অন্যদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে অর্ধেকের বেশি যাত্রী ও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাসে নেই জীবাণুনাশক স্প্রে।

সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের অর্ধেকের চেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে বাসচালক ও হেল্পার বলছেন, বাসের ভেতরে অতিরিক্ত যাত্রী নেই, যারা দাঁড়িয়ে আছেন তারা সামনে সিট খালি হলে বসে পরবেন। দুই সিটে এক যাত্রী বসানোর কথা, ওইডা ঠিক আছেনি দেহেন। সামনেই কয়েকজন নাইমা যাইব, তহন আবার এরা বইব। এডারে দাঁড়াইয়া যাত্রী নেওয়া কয় না।

গুলিস্তান এলাকায় গাদাগাদি করে বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রী তোলা হলেও পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের কোনো সদস্যকে তৎপর দেখা যায়নি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ট্র্যাফিক পুলিশ বলেন, বাস চলাচলে তদারকি করা হচ্ছে। তবে বাসের ভেতরে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হয়েছে কিনা সেটি মনিটরিং করার মতো সময় নেই।

                   ফ্রি কুইজে অংশগ্রহণ করে জিতে নিন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার

মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সামনে স্কাইলাইন পরিবহনের চালক মাসুম আন্তঃজেলা বাস চলাচলের বিষয়ে জানান, ঢাকা মহানগর এবং গাজীপুর মহানগরে যান চলাচলে কেউ তাদের বাধা দেয়নি। মালিকপক্ষের নির্দেশে তারা যাত্রী পরিবহন করছেন।

Tagged