http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/মানুষকে-ভাগ্যের-হাতে-ছেড়ে-দিয়ে-লুকিয়েছেন-মোদি.jpg

মানুষকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে লুকিয়েছেন মোদি!

সারা বাংলা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন বারানসিতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যু। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তরের রাজ্য উত্তর প্রদেশের এ আসনের ক্ষুব্ধ মানুষ তাদের এই দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেখতে চান। কিন্তু মোদির যেমন দেখা নেই, তেমনি স্থানীয় বিজেপি নেতারাও মুখ লুকিয়েছেন। মানুষকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে লুকিয়েছেন মোদি!

ভারতজুড়ে এখন করোনাভাাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। ইতিমধ্যে দেশটিতে শনাক্তের সংখ্যা দুই কোটি হয়ে গেছে। মারা গেছেন ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময় বারানসির স্বাস্থ্যকাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালে করোনার শয্যার সংকট তীব, অক্সিজেন নেই, অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এখানে কোভিড পরীক্ষার ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় এক সপ্তাহ। ১০ দিন ধরে ওষুধের দোকানগুলোয় ভিটামিন, জিংক ও প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ মিলছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসাকর্মী বিবিসিকে বলছেন, ‘করোনার শয্যা আর অক্সিজেনের কথা বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। খুব প্রয়োজনীয় ওষুধগুলোও পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে মানুষ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাচ্ছে। মানুষ বলছে, এগুলো হয়তো কম কার্যকর। কিন্তু কিছু একটা তো শরীরে যাচ্ছে।’

বারানসি শহরে করোনার প্রকোপ শুরু হয় মার্চ মাস থেকে। ভারতের দিল্লি ও মুম্বাইয়ে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়লে এ শহরেও ব্যাপক সংক্রমণ শুরু হয়। অনেকে ২৯ মার্চ হোলি উৎসবে বাড়ি আসে। এরপর ১৮ এপ্রিল ছিল উত্তর প্রদেশের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশে ওই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সাত শতাধিক শিক্ষক মারা গেছেন।
বারানসির ২৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ঋষভ জৈন বিবিসিকে বলেন, তাঁর ৫৫ বছর বয়সী কাকা করোনায় আক্রান্ত হলে প্রতিদিন তাঁকে অক্সিজেন সিলিন্ডার ভরাতে ৩০ কিলোমিটার যেতে হতো। ঋষভ বলেন, ‘কাকার অক্সিজেন লেভেল ৮০–র নিচে গেলেই আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমরা কোনো হাসপাতালে সিট পাইনি। অক্সিজেনের জন্য ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টায় অন্তত ২৫টি নম্বরে ফোন করেছি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুল আবেদন জানালে জেলা প্রশাসন একটি সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে।’

বারানসির এই অবস্থা দেখে গত ১৯ এপ্রিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট এ শহরে সাত দিনের লকডাউন দেওয়ার নির্দেশ দেন। বারানসিতে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭০ হাজার ৬১২ জনের। মারা গেছেন ৬৯০ জন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৬ হাজার ২৮০ জনই আক্রান্ত হয়েছে ১ এপ্রিলের পর থেকে।

করোনা শুধু বারানসি শহরে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে। বারানসির কাছের চিরাইগাঁওয়ের স্থানীয় ব্লকপ্রধান সুধীর সিং পাপ্পু বিবিসিকে বলেন, তাঁর ব্লকে ১১০টি গ্রাম আছে। এখানে প্রতিটি গ্রামে ৫ থেকে ১০ জন মানরা গেছে। কোনো কোনো গ্রামে মৃত মানুষের সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০ পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাপ্পু বলেন, ১১০ গ্রামের এ ব্লকে কোনো হাসপাতাল নেই। অক্সিজেন নেই, ওষুধ নেই।

প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিকবার গঙ্গা নদী এবং প্রাচীন এই শহর বারানসির প্রতি তাঁর ‘বিশেষ অনুরাগের’ কথা বলেছেন। এ শহরের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা বলেছেন। কিন্তু করোনার এ দুঃসময়ে তিনি অনেক দূরে। এ শহরের মানুষ দেখেছে, করেনার থাবায় যখন এ শহরের মানুষ বিপর্যস্ত, সেই সময় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের জন্য দলের প্রচারে মোদি ১৭ বার পশ্চিমবঙ্গ গেছেন।

সেই নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। ১৭ এপ্রিল মোদি বারানসির কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন সভা করেন। স্থানীয় এক মানুষ একে প্রহসন হিসেবে মন্তব্য করেন। বারানসির এক রেস্তোরাঁর মালিক বলেন, ‘বারানসি শহর এবং এর মানুষকে ভবিতব্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী (যোগী আদিত্য) লুকিয়েছেন। স্থানীয় বিজেপির নেতারাও কেউ নেই। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।