http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/মসজিদের-নির্মাণের-টাকাই.jpg

মসজিদ নির্মাণের টাকাই চেয়ারম্যানের পারিবারিক গোরস্থান নির্মাণ

সারা বাংলা

পটুয়াখালীর মহিপুরের ধুলাসার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মসজিদের নির্মাণের টাকাই পারিবারিক গোরস্থান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জনশ্রুতি রয়েছে, তিনি ব্যাপক টাকা খরচ করে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আশ্রয়ন প্রকল্প-২ আওতাভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর বিতরণ থেকে শুরু করে জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত চাল, টিআর, কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। এ বিষয়ে দফায় দফায় অভিযোগ উঠলেও উপজেলা প্রশাসনের নীরবতার কারণে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছেন। অজ্ঞাত কারণে উপজেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার ৯নং ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আঃ জলিল আকন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় পর্যায় নগদ অর্থের বিপরীতে ১ লাখ ৯২ হাজার পাঁচশত ও ২০২০-২০২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় পর্যায় নগদ অর্থের বিপরীতে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৫ লাখ ৬০ হাজার পাঁচশত টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দুটি এজেন্ডা দেন। গত ১১ মার্চ পরিষদের সভার মাধ্যমে চাপলি বাজার জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে কবরস্থানের বাউন্ডারি নির্মাণ একটি প্রকল্প দেখানো হয়।

সেখানে চেয়ারম্যান আঃ জলিল আকন নিজে সভাপতি হয়ে পাঁচ সদস্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে মসজিদের গোরস্থান নির্মাণ না করে নিজের পারিবারিক কবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ শুরু করেন। কমিটিতে চেয়ারম্যান নিজে সভাপতি এবং তার অনুসারী ৩ জনকে সদস্য করা হয়। ওই কমিটির নামে মাত্র চাপলি বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোঃ জাকারিয়াকে রাখা হলেও এ বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। অবশ্য এর প্রমাণও পাওয়া গেছে। কমিটির রেজুলেশনের খাতায় সকলের বাবার নাম থাকলেও ইমাম জাকারিয়ার বাবার নাম উল্লেখ নেই। এবিষয়ে ইমাম মো. জাকারিয়া বলেন, ‘প্রকল্পের বিষয় আমি কিছুই জানি না। আমাকে কোন দিন ডাকা হয়নি।

এ ব্যাপারে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম আহসান বলেন, চেয়ারম্যান আঃ জলিল আকনকে বলা হয়েছে মসজিদের পাশে জনসাধারণের জন্য কবরস্থান করা হবে। তবে তদারকিতে যেন মসজিদ কমিটির লোক রাখা হয়। কিন্তু সে তা না করে তার খেয়াল খুশি মতো সরকারি অর্থের বরাদ্দের টাকা দিয়ে তার নিজের পারিবারিক গোরস্থান নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তিনি এর আগেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ আজাহার খলিফা বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে যারাই থাকুক না কেন মসজিদ সংশ্লিষ্ট কাজ হলে মসজিদ কমিটির সদস্য তথা মুসল্লিরা বিষয়টি জানার কথা। সেখানে সভাপতি ছাড়া কোন সদস্য কিছুই জানেন না।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বর্তমান চেয়ারম্যান আঃ জলিল আকন ধুলাসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তখন স্থানীয় সাংসদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মাহবুবুর রহমান তালুকদারের সহযোগিতায় মসজিদ খালিদ জামিল (চাপলি বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ) নির্মাণ কাজের প্রকল্প তৈরি করেন। সেখানেও তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হয়ে সাত সদস্যর একটি কমিটি গঠন করে মসজিদ উন্নয়নে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

সেখানে দেখা যায়, আল ফোরকান ফাউন্ডেশনের ৩৪ লাখ ও স্থানীয় অনুদানসহ ৪১ লাখ ২২ হাজার পনের টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ করা হয়। যেখানে ভৌতিক ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ বিদ্যমান। একটি তুলাগাছ (শিমুল গাছ) বাবদ ৩৫ হাজার তিনশ চুরাশি টাকা দেখানো হয়েছে অথচ তুলাগাছটি কেনা হয়নি। পাউবো বেড়িবাঁধ থেকে মসজিদের উন্নয়নের স্বার্থে কেটে আনা হয়েছিল। এভাবে অফিসিয়াল আপ্যায়ন, স্টেশনারি সব মালামালের আলাদা আলাদা বিল ভাউচার থাকা সত্ত্বেও বিবিধ ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাতের একাধিক প্রমাণ মিলেছে।

কবরস্থান বিষয় জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আঃ জলিল আকন বলেন, মসজিদের পাশে কবরস্থান করার কথা থাকলেও মসজিদ কমিটির সমন্বয়হীনতার কারণে তা করা যায়নি। তাই বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করিনি। এখন আমার নিজের অর্থায়নে পারিবারিক কবরস্থান নির্মাণ করছি।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আমরা জেলায় পাঠিয়েছি। বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। তবে কাজ করলে প্রকল্প যেখানে, সেখানেই করতে হবে, অন্য কোথাও করলে বিল হবে না। বিশেষ করে প্রকল্প সংশোধন করার প্রয়োজন হলে তাও করা যাবে।