http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/যেন-নদীতেও-মাছের-কঠোর-লকডাউন-চলছে.jpg

যেন নদীতেও মাছের কঠোর লকডাউন চলছে!

সারা বাংলা

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে সারা বিশ্বে মৃত্যুর মিছিল চলছে। দেশে সংক্রমণ রোধে চলছে কঠোর লকডাউন। তেমনি নদীতেও যেন মাছের কঠোর লকডাউন চলছে।

লাখ টাকা খরচ করে জেলেরা নদীতে গেলেও জালে ধরা পড়ছে না ইলিশসহ অন্যান্য মাছ। মার্চ-এপ্রিল দু’মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শেষে গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য নেমেছেন জেলেরা। কিন্তু নদীতে জাল ফেলে তিন দিনেও মাছের দেখা না পেয়ে খালি ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরেছেন অনেকেই।

এতে রমজানের কারণে বাড়তি চাহিদা থাকলেও বাজারে মাছের দেখা নেই। কোনো কোনো ট্রলারের ভাগ্যে যা জুটছে, সেই যৎসামান্য মাছ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। চাঁদপুর মতলবের মৎস্য আড়ৎগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে যাওয়া ট্রলারগুলো মেঘনা নদীর তীরে ফিরছে। কিছু কিছু ট্রলারে মাছের পরিমাণ একেবারেই কম। আবার অনেকে ফিরেন খালি ট্রলার নিয়েই।

জেলেরা বলছেন, জাল ফেলেও মিলছে না মাছের দেখা। ফলে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে। জেলে ইমরান বলেন, ‘গত বছর এই সময় নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে এক হাজার ইলিশ পেয়েছিলাম। কিন্তু গত তিন দিন নদীতে মাছ শিকার করে পেয়েছি মাত্র ১০টি ইলিশ।

উপজেলার বাবুবাজার, এখলাছপুর, আমিরাবাদসহ কয়েকটি মাছ ঘাটের কয়েকজন জেলে জানান, সকল কষ্ট স্বীকার করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে গত দুই মাস নদীতে মাছ ধরতে যাইনি। এহন নদীতে মাছ ধরতে যাইয়া খালি হাতে ফিরছি। সংসারে বউ বাচ্চা নিয়া কেমনে বাছুম এই চিন্তায় আছি। দাদনদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা এনে জাল ও নৌকা মেরামত করে অনেক আশায় নদীতে নামছিলাম কিন্তু মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছি।

মৎস্য ব্যবসায়ী বিমল চন্দ্র বলেন, মৎস্য আড়ৎগুলোতে মাছের আমদানি কম হলে, দাম বেড়ে যায়। ট্রলারগুলো যেভাবে খালি ফিরে আসছে তাতে মনে হচ্ছে নদীতে ‘মাছের লকডাউন’ চলছে।