http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/ধর্ষণের-পর-১০০-শিশুকে-হত্যা-মরদেহ-টুকরা-করে-অ্যাসিডে-গলাতেন-তিনি.jpg

ধর্ষণের পর ১০০ শিশুকে হত্যা, মরদেহ টুকরা করে অ্যাসিডে গলাতেন তিনি

সারা বাংলা

প্রতিশোধ নিতে ১০০ মাকে কাঁদাতে চেয়েছিলেন তিনি। নিজের মতো তাই ধর্ষণের পর ১০০ শিশুকে হত্যা করেন। জাভেদ ইকবাল নামের বিকৃত মস্তিষ্কের এই খুনিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সিরিয়ালি কিলার বলা হয়।

সাদামাটাই ছিল জাভেদের জীবন। বাবা ছিলেন খুবই ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি ছিলেন স্টক মার্কেটের ট্রেডার। সুখেই কাটছিল তার জীবন। কিন্তু ধর্ষণের এক মামলায় তাকে জেলে যেতে হয়। কেঁদে কেটে মারা যায় তার মা। একপর্যায়ে তার মাথায় খুনের নেশা চাপে। নিজের মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ’১০০ মাকে কাঁদাতে’ প্রতিজ্ঞা।

ভয়ানক সেই প্রতিজ্ঞা পূরণে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী বালকদের টার্গেট করতেন তিনি। বালকদের আকৃষ্ট করতে একটি ভিডিও গেমসের দোকান খুলেছিল জাভেদ। সস্তায় বা বিনামূল্যে গেমস খেলার টোকেন দেয়া হতো। এভাবেই স্থানীয় বালকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পায় দোকানটি।

আবার মাঝে মাঝে মেঝেতে ১০০ রুপির নোট ফেলে রাখতো জাভেদ। এরপর ১০০ রুপি চুরি হয়েছে ঘোষনা করে সবাইকে তল্লাশি করতো। এভাবে চোরকে ধরে পাশের একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করতো। কখনও কখনও ধর্ষিত বালককে ওই ১০০ রুপি দিয়ে দেয়াও হতো। তবে বেশিদিন ভিডিও গেমসের দোকান চালাতে পারেননি। এরপর সে গরিব, রাস্তায় রাত কাটানো বালকদের টার্গেট করা শুরু করে। আবার পত্রিকা মারফত পত্রমিতালিও করতো অনেক বালকের সঙ্গে। বিভিন্ন দামি উপহার পাঠিয়ে তাদের মন জয় করতো।

পরে সেসব বালকদেরকে নিজেদের ছবি পাঠাতে বলতো। তারা সরল মনে ছবিও পাঠিয়ে দিতো। সেখান থেকে যেসব বালকদের তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হতো, তাদের ফাঁদ ফেলে অপহরণ করতো জাভেদ। অপহরণ করে বালকদের নিজের শাদবাগের বাসায় নিয়ে যেতেন জাভেদ। তারপর ওই বালকদের ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করতো। এরপর মৃতদেহগুলোকে কেটে টুকরো টুকরো করতো। তারপর সেগুলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দিয়ে গলিয়ে দিতো।

এক বছরের মধ্যেই নিজের মিশন শেষ করে ১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ধরা দিয়েছিলেন জাভেদ। তবে সরাসরি পুলিশ স্টেশনে না গিয়ে উর্দু সংবাদপত্র ডেইলি জাঙ-এর অফিসে হাজির হন তিনি। সেখানে গিয়ে নির্লিপ্তভাবে তিনি বলেছিলেন, আমি জাভেদ ইকবাল, ১০০টি বাচ্চার হত্যাকারী।

এমন ঘটনা সামনে আসতে পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম হয়। জাভেদকেও শিশুদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেভাবে হত্যার দাবি তুলতে থাকে মানুষজন। পরে ২০০০ সালের ১৬ মার্চ বিচারপতি আল্লাহ বকশের প্রাথমিক রায়ে মানুষজনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটে। রায়ে তিনি বলেছিলেন, জাভেদ ইকবাল ১০০ জনকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তাকে ১০০ বার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হবে। এরপর তার শরীরকে ১০০ খন্ড করে সেগুলো অ্যাসিডে দ্রবীভূত করা হবে। ঠিক যেমনটা সে তার শিকারদের সঙ্গে করেছে। তবে রায় বাস্তবায়নের আগেই আত্মহত্যা করেন নৃশংস এই খুনি।