http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/অক্সিজেন-রফতানি-বন্ধ-করলো-ভারত-সংকটে-বাংলাদেশ.jpg

অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করলো ভারত, সংকটে বাংলাদেশ

সারা বাংলা

ভারতে সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়েছে করোনা মহামারি। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট। গত কয়েকদিন ধরে দেশটিতে দ্বিগুণ-তিনগুণ কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। এ পরিস্থিতিতে কোনও ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। তাতে করে বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে অক্সিজেন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

গত ৪ দিন ধরেই বাংলাদেশের বাজারে ভারত থেকে কোনও অক্সিজেন আসছে না। দেশের চিকিৎসা খাতে হঠাৎ জরুরি অক্সিজেন আমদানি বন্ধ হওয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এরইমধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভারতে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি থাকলেও অক্সিজেনের অপেক্ষায় রুদ্ধশ্বাস হয়ে থাকছে হাসপাতালগুলো। সময়মতো অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় দেশটিতে করোনা আক্রান্ত বহু রোগী মারা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্ক না। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সূত্র ধরে ক্রান্তিকালীন এই সময়ে সীমিত পরিসরে হলেও ভারত অক্সিজেন রফতানি সচল রাখবে বলে প্রত্যাশা তাদের। সবশেষ গেল ২১ এপ্রিলের আগে এক সপ্তাহে ৪৯৮ মেট্রিক টন অক্সিজেন ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এরপর আর কোনও অক্সিজেন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেনি।

সময়মতো ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্রের জটিলতা আর পূর্বপরিকল্পনার অভাবকেই ভারতে অক্সিজেন সংকটের কারণ উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রধান সমস্যা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে সময়মতো অক্সিজেন পৌঁছুচ্ছে না। অক্সিজেন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো অনেক দূরে থাকায় এবং বিতরণ ব্যবস্থা সমন্বিত না হওয়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যের হাসপাতালগুলো অক্সিজেন সংকটের কারণে বেসামাল হয়ে পড়েছে।

এদিকে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানিয়েছেন, দেশের চিকিৎসা খাতে অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে বড় একটি অংশ বছরজুড়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। প্রতিমাসে শুধু বেনাপোল বন্দর দিয়েই প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন অক্সিজেন দেশে আসে।

অক্সিজেন পরিবহনকারী বেনাপোল বন্দরে বাংলাদেশি কয়েকজন ট্রাকচালক জানিয়েছেন, তারা গত ৪ দিন ধরে বেনাপোল বন্দরে ট্রাক নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ভারত তেকে কোনও অক্সিজেন বন্দরে আসছে না।

এ বিষয়ৈ অক্সিজেন আমদানিকারকদের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ-এর রাকিব হোসেন জানান, ভারত নিজ দেশের লোকদের অক্সিজেন সরবরাহ করতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে। তাদের নিজেদেরই এখন অক্সিজেন সংকট দেখা দিচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে ভারত অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে দেশটির সরকারেরও কিছুটা চাপ রয়েছে।

হঠাৎ ভারত থেকে অক্সিজেন রফতানি বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে যেমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন, একইসঙ্গে দেশে করোনা মহামারিকালীন চিকিৎসাসেবাও অক্সিজেন সংকটে বড় হুমকির মুখে পড়ছে।

দেশের আমদানিকারকেরা ভারতের রফতানিকারকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন, ভারতে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করায় দেশটির রফতানিকারকরা অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের ওপর সরকারের চাপ আছে। করোনাকালীন ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ভারত বাংলাদেশে সাময়িকভাবে অক্সিজেন রফতানি বন্ধ রেখেছে।

বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু প্রতিদিনই বাড়ছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় অক্সিজেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে অক্সিজেন স্বল্পতা থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তরল অক্সিজেন দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।