http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/ব্যাংকারের-আত্মহত্যায়-হুইপপুত্রের-গ্রেপ্তার-দাবি-করলেন-পরিবার.jpg

ব্যাংকারের আত্মহত্যায় হুইপপুত্রের গ্রেপ্তার দাবি করলেন পরিবার

সারা বাংলা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরীসহ অন্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী। আজ শনিবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। ব্যাংকারের আত্মহত্যায় হুইপপুত্রের গ্রেপ্তার দাবি করলেন পরিবার।

ইশরাত বলেন, হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা আরশাদুল আলম বাচ্চুর অব্যাহত চাপ, হুমকি ও হামলার কারণে নিরুপায় হয়ে ব্যাংকার আবদুল মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ২০১০ সাল থেকে মোরশেদ তাঁর আপন ফুফাতো ভাইদের সঙ্গে ব্যবসা করছিলেন। কোনো নথিপত্র ছাড়া তাঁরা মোরশেদকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেন। তিনিও তাঁদের ৩৫ কোটি টাকা শোধ করেন। ২০১৮ সালের দিকে এসে তিনি ওই ব্যবসার কথা পরিবারের অন্যদের জানান এবং বলেন, তিনি আর ব্যবসাটা করতে চান না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোর্শেদ চৌধুরীর সঙ্গে শারুন চৌধুরীর সরাসরি কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন না থাকলেও পারভেজ ইকবাল ও জাবেদ ইকবালের মাধ্যমে শারুন চৌধুরী ব্যবসার অর্থ বিনিয়োগ করেন বলে তিনি শুনেছেন। দেশজুড়ে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে শারুন আত্মগোপনে যান, এরপর থেকে তিনি আর সরাসরি কোনো বৈঠকে হাজির হননি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাত জাহান চৌধুরী যে পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা বলেন, তাঁর নাম বিজয় বসাক। ওই সময় তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ উত্তরের উপকমিশনার ছিলেন। মোরশেদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিজয় বসাক টাকা আদায়ের কাজ তত্ত্বাবধান করেছেন।

ইশরাত বলেন, ২০১৮ সালে মোরশেদকে তাঁর ফুফাতো ভাইয়েরা এম এম প্যালেসে আটকে রাখেন। তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকান, পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং তাঁকেও নানাভাবে হেনস্তা করেন। ওই সময় পাঁচলাইশ থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এক বছর পর বাসায় হামলা হলে তাঁরা সরাসরি উপকমিশনার বিজয় বসাকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর নির্দেশে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়।

ওই ঘটনায় মোরশেদের ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল গ্রেপ্তার হন। তিনি জামিনে বেরিয়ে আসার পর বিজয় বসাকের সঙ্গে দেখা করেন। বিজয় বসাক তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে একটি চুক্তিপত্রে সই করান। ওই চুক্তিপত্র অনুযায়ী মোরশেদকে ১২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। যদিও কেন এই টাকা দিতে হবে তা-ই বুঝতে পারছিলেন না মোরশেদ ও তাঁর পরিবার।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ইশরাত বলেন, এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোন তারিখে কত টাকা মোরশেদকে ব্যাংকে জমা দিতে হবে, ঠিক করে দিতেন বিজয় বসাক। গত ১১ মার্চ বিজয় বসাক মোরশেদকে ফোন করে বাসায় ও ব্যাংকে পুলিশ পাঠিয়ে ধরে আনার হুমকি দেন। ওই অডিও রেকর্ডটিও সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে।

ইশরাত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘একজন আইনের লোক হয়ে তিনি (বিজয় বসাক) কি এ কাজ করতে পারেন? তিনি আদালতে যেতে বলতে পারতেন। দোষী হলে মোরশেদের শাস্তি হতো।