৬ বছর ধরে বিনামূল্যে সেহরি বিতরন করেন নূর নাহার

সারা বাংলা

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে রাত ২টা। মূল গেটে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন রোগী ও রোগীর স্বজনরা থালা-বাটি হাতে । এ দৃশ্য পুরো রমজান মাসজুড়ে। নূর নাহারের কাছ থেকে সেহরি নিতেই হাসপাতাল গেটে নারী-পুরুষের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা।গত ৬ বছর ধরে নিজে হাতে রান্না করে নাহার ফার্মেসির মালিক নূর নাহার বেগম হাসপাতালের রোগী ও রোগীর স্বজনদের বিনামূল্যে সেহরি খাওয়ান। তিনি একমাত্র ছেলের আত্মার শান্তি কামনায় কাজটি বেছে নিয়েছেন । হাসপাতাল পার্শ্ববর্তী দুস্থ পরিবারেরও অনেকে আসেন সেহরি নিতে। কেউ সেখানে বসে  সেহরি খান, কেউ সেহরি নিয়ে যান। রমজান মাসজুড়ে তিনি হাসপাতালের রোগী, রোগীর স্বজন এবং নিকটবর্তী দুস্থদের সেহরি বিতরণ করেন।  প্রতিদিন সেহরি ২৫০ জনকে নিজ খরচে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। নূর নাহারের স্বামী নুরুল ইসলাম মেহেরপুর পিডিবি অফিসে কর্মরত। নূর নাহার ফার্মেসি ব্যবসা করেন।  মাংস অথবা মাছের সঙ্গে চিকন চালের ভাত, ডাল ও একটি সবজি সেহরি জন্য রান্না করা হয়।

হাসপাতালে ঝরনা খাতুন, আমঝুপি গ্রামের রশনি আরা, গাংনী উপজেলার জব্বার উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, কয়েক দিন ধরে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নূর নাহার বেগম তাদের সেহরি দেওয়ার কারণে সেহরি জন্য চিন্তা করতে হয় না। রোগীদের মধ্যে সেহরি বিতরণে হাসপাতাল এলাকার আব্বাস আলী  নূর নাহারকে সহযোগিতা করেন । নূর নাহার বেগম বলেন, তার একটি ছেলে ছিল। সে মারা যায় ২০১৫ সালে । পরের বছর থেকে তিনি তার আত্মার শান্তির জন্য ছেলের নামে ইফতার আর সেহরি খাওয়ানো শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ যথেষ্ট দিয়েছেন। জায়গা জমি রয়েছে। একটি মাত্র মেয়ে তার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটা মারা গেছে। সে বেঁচে থাকলে তারও হক ছিল। ‘নাহার ফার্মেসি’ আমার ছেলের জন্য করা হয়েছিল। সে মারা যাওয়ার পর দোকান বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তিতে স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়মিত ছয় বছর ফার্মেসি চালিয়ে আসছি।  এ ফার্মেসি থেকে যা আয় হয় তা দুস্থদের কল্যাণে ব্যয়ের চেষ্টা করি।