http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/১৩-বছর-ধরে-এই-হিজরার-সঙ্গে-সাংসারিক-জীবন-আশিক-অব্বাসের.jpg

১৩ বছর ধরে এই হিজরার সঙ্গে সাংসারিক জীবন আশিক অব্বাসের!

সারা বাংলা

১৩ বছর ধরে  তাদের এই সম্পর্ককে আজ কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটিজেনরা। আপন হলেন একটি এলাকার হিজড়াদের নেতা। তার সঙ্গে ব্যবসায়ী আশিক অব্বাসের প্রেমের সম্পর্ক প্রায় ১৩ বছর ধরে । আপন জানান, আমাদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ যেটা পায় না। সেটা আমি ওর কাছ থেকে পেয়েছি এবং তার বিনিময়ে যে কোনও স্বার্থ থাকতে পারে, তাও আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি। আশিক ও আপন দুজনের প্রথম দেখা পথের ধারে। প্রথম থেকেই আপনের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয় ব্যবসায়ী আশিকের।

সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আশিক জানান, আমি দেখলাম দুজন মানুষ আসছে। দুজন মানুষ বলতে তারা, আমি দুর থেকে বুঝতে পারলাম যে, এরকম হিজড়া যে বলে যাদেরকে, এরকম কেউ আসছে। কোনও নারীও না কোনও পুরুষও না, এরকমটা মনে হলো দূর থেকে আরকি।

তিনি আরও জানান, সামনে আসার পর আমি কেন জানি, আমার হাতে থাকা খাবার ওকে দিলাম, আর সেটা আমার কাছ থেকে নিয়ে খেলো, আমি নিজেও কিছু সময়ের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলেও আমার কাছে জিনিসটা ফিলিংসই মনে হলো। খুব ভালো লাগলো।

আমার অন্তরে জানি কেমন লাগলো। এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। শুরুর দিকে ওই সম্পর্ক নিয়ে দোটানা ছিল দুজনের মধ্যেই।এদের সম্পর্কে তো আমার কোনো ধরণের অভিজ্ঞতা ছিল না। তো হিজড়ারা কেমন হয়, সে বিষয়ে আতঙ্ক ছিল আমার মধ্যে। কিন্তু…

এই কথাগুলো বলছিলেন আশিক। এসময় আপন বলে উঠেন, ভিতর ভিতর ভয় পাচ্ছিলাম আমিও। যে এত সুন্দর হিজড়া থাকতে, আমি তো দেখতে এতটা ভালো ছিলাম না। তো আমি তো, এত সুন্দর একটা ছেলে ওর শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালো, ও ভালো একটা ফ্যামিলির ছেলে, তো ও কেন আমার পিছনে।

পরে আশিক আব্বাসের পরিবারের সদস্যদের সাথে আপনের পরিচয় হয়। এরপর পারিবারিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানও করেন তারা। এর কিছুদিন পর আইনিভাবেও তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।কয়েকজন হিজড়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতো বসবাস করেন আশিক আর আপন। আপনের চাওয়া, আশিক যেন ভবিষ্যতে আবার বিয়ে করেন।

আপন বলেন আমার ধীরে ধীরে বয়স হচ্ছে। ওরও (স্বামী আশিক) বয়স হচ্ছে। ও আরেকটু স্বাবলম্বী হলে আমি ওকে বিয়ে করাবো, এটা আমার স্বপ্ন। আমি ওর কোলে একটা ফুটফুটে সন্তান দেখতে চাই। এটা আমার স্বপ্ন।

তবে আশিকের সকল চাওয়া পাওয়া তার জীবনসঙ্গী আপনকে ঘিরেই।আশিক জানান, আমরা একটা বাচ্চা এরই মধ্যে পালক (দত্তক) নিয়েছি। তারপরেও আমার যদি ওই রকম প্রয়োজন হয়, (পদ্ধতি ব্যবহার করে) ওরও বাচ্চা ধারণ করা সম্ভব। সবশেষ আপন জানান, এভাবে আমাদের জীবনটা শুরু হলো, এখনও আছে। ওপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা, যদি কোনও বাধাবিঘ্নতা না আসে, সারাটা জীবন একসাথেই থাকতে চাই।