http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/৩-বছরের-সন্তানকে-ব্রিজ-থেকে-নদীতে-ফেলে-দিলো-মা.jpg

৩ বছরের সন্তানকে ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দিলো মা!

সারা বাংলা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুকে ব্রিজ থেকে ১শ’ ফুট নিচে নদীতে ফেলে দেয় মানসিক বিকারগ্রস্ত এক মা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে। বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়ন বাজারের পাশে ঘটেছে এ ঘটনা। স্থানীয় সফিকুল জানায়, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানকে নিয়ে এক মহিলাকে বেরুবাড়ী ছড়ার উপর ব্রিজে দেখেন।

হঠাৎই তিনি পানিতে কিছু একটা পড়ার শব্দ পেয়ে তাকিয়ে দেখেন ওই মহিলা তার সন্তানকে নিচে পানিতে ফেলে সামনের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। পরে সফিকুল দ্রুত দৌড়ে গিয়ে বাচ্চাটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। চিৎকার করে আশেপাশের লোকজন ডেকে ওই মহিলাকে আটক করেন।

আটক মহিলাকে অসংখ্যবার জিজ্ঞেস করার পরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে শিশুটি বার বার বলেছে তার বাড়ি বালাবাড়ী। তার মাকে যেন কেউ না মারে। পরে ওই মা ও শিশুকে বেরুবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিলে চেয়ারম্যান আব্দুল মোত্তালেব বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হন।

জানা যায়, ওই মহিলার নাম লায়লা বেগম (৩৬)। তিনি পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর বালাবাড়ী গ্রামের খোরশেদ খোকন মিয়ার স্ত্রী। তাদের তিনটি কন্যা সন্তান। পানিতে পড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ছোট মেয়েটির নাম সৌমি খাতুন।

বেঁচে যাওয়া সৌমির খালু গোলাম রব্বানী জানান, দ্বিতীয় কন্যা সন্তান হাসি খাতুনের জন্ম দেয়ার পর থেকে লায়লার মাথার সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। তখন থেকেই ইচ্ছে হলে কথা বলেন, না হলে চুপচাপ থাকেন। তবে আজকের মতো আগে কখনো এমনটি করেননি। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোত্তালেব জানান, কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে তার সন্তানকে ব্রিজ থেকে পানিতে ফেলে দেয়া সম্ভব নয়।

মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ায় ওই মহিলা এ কাজটি করেছেন। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তার মানসিক সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ওই শিশুকে ও তার মাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি আমরা। নাগেশ্বরী থানার এ.এস.আই বিনয় চন্দ্র জানান, অভিযোগ না থাকায় মা ও শিশুকে তার স্বামী ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।