http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/জীবিত-থেকেও-কাগজপত্রে-মৃত-হওয়ায়-বৃদ্ধার-দুর্ভোগ.jpg

জীবিত থেকেও কাগজপত্রে মৃত হওয়ায় বৃদ্ধার দুর্ভোগ

সারা বাংলা

বাস্তবে জীবিত কিন্তু কাগজপত্রে মৃত এ কারণে নানান সমস্যায় পড়ছেন বরিশালের মুলাদী উপজেলার ৬৫ বছরের বৃদ্ধা শানু বেগম। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরে ছোটাছুটি করছেন তিনি। আশ্বাস পেয়েছেন, তবে সমাধানে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

মার্চ মাসের শেষদিকে মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বয়স্ক ভাতা বিষয়ে খোঁজ নিতে যান শানু বেগম। তখন সেখান থেকে তার নামধাম না থাকায় বিষয়টি খোঁজ নিয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয় তাকে। উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পর শানু বেগম প্রথম জানতে পারেন, কাগজপত্রে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। তবে কীভাবে জীবিত থেকেও মৃত হলেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাকে দিতে পারেনি।

শানু বেগম জানান, বছর খানেক আগে তিনি বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত। অথচ তার পরিচিতদের সবাই ঠিকমতো এই ভাতা পাচ্ছিলেন। কেন তিনি পাচ্ছেন না এ বিষয়টি জানতে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এবং সেখান থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে শানু বেগম আরও জানান, জীবিত থাকা অবস্থায় কাগজপত্রে মৃত দেখানোর বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক। এ সমস্যার কারণে সরকারি সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ঘটনার কারণে কষ্টে দিন কাটছে শানু বেগমের। মেয়েদের কোনোভাবে বিয়ে দিতে পারলেও দুই ছেলে বেকার।

এ ব্যাপারে কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মন্টু বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন এবং সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাচন অফিস ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে জানান।

এদিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা সনাক সভাপতি শাহ শাজেদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি অমানবিক এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে শানু বেগমের সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।