http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/ছাত্রকে-বলাৎকারের-পর-কোরআন-ছুঁইয়ে-শপথ-করান-হেফাজত-নেতা.jpg

ছাত্রকে বলাৎকারের পর কোরআন ছুঁইয়ে শপথ করান হেফাজত নেতা

সারা বাংলা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পৌর এলাকার বড়খারচর আদর্শ নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার মোহতারিম ও স্থানীয় হেফাজত নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলীর (৩৫) বিরুদ্ধে এক শিশুছাত্রকে বলাৎকার করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৮ এপ্রিল) রাতে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক ইয়াকুব আলী উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল কাদিরের ছেলে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় বুধবার (০৭ এপ্রিল) রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ওই মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রজ্জু করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শিশুটি রহস্যজনক কারণে বেশ কিছুদিন ধরে মাদরাসায় যেতে চাচ্ছিলো না। এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মারধর ও শাসন করেও কাজ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে শিশুটি মাদরাসার নাম করে তার মাকে নিয়ে থানার সামনে আসে। তার মা মনে করেন, মাদরাসা যাওয়া নিয়ে তাকে শাসন করায় যে হয়তো পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে চায়। এমন ভয়ে মা ছেলেকে থানার সামনে থেকে  বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

এরপর শিশুটি তার মাকে মাদরাসা কমিটির সভাপতি আবদুস সাত্তার মাস্টারের কাছে নিয়ে যেতে বলে। তখন তার মা মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি সাত্তার মাস্টারের কাছে শিশুটিকে নিয়ে যান। এসময় কমিটির সভাপতির কাছে ছেলেটি তার সঙ্গে ওই শিক্ষকের বর্বরোচিত ঘটনার বর্ণনা দেয়। সে জানায়, ওই শিক্ষক তাকে বলাৎকার করেছে। এমনকি এ ঘটনা কাউকে না বলতে পবিত্র কোরআন ছুঁইয়ে শপথও করিয়েছে। পরে শিশুটি সভাপতিকেও তাকে থানায় নিয়ে যেতে অনুরোধ করে।

পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটি জানায়, ইয়াকুব আলী তাকে রাত ২টার দিকে পরপর দুদিন ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলৎকার করে। বলাৎকারের পর পবিত্র কোরআন ছুঁইয়ে তাকে শপথ করানো হয়, যাতে এ ঘটনা সে কাউকে না জানায়।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ হাসান সারওয়ার মহসিন জানান, হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী স্থানীয় হেফাজতের একজন সক্রিয় নেতা। এমন কলঙ্কজনক ঘটনায় পৌরবাসীর পক্ষ থেকে তিনি এই লম্পট হেফাজত নেতার কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হেফাজত নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

Tagged