http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/আত্মপ্রত্যয়ী-যুবক-লিটনের-সাফল্য.jpg

আত্মপ্রত্যয়ী যুবক লিটনের সাফল্য

ক্যারিয়ার

আত্মপ্রত্যয়ী যুবক লিটনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউপির গাজীর বাজার এলাকার সাবেক মেম্বার মো. আছাব আলীর ছেলে। পরিবারে ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে লিটন চতুর্থ।

ছোট বেলা থেকেই মাছ চাষ, বিভিন্ন ফল আর সবজি আবাদের প্রতি ছিল যথেষ্ট আগ্রহ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর নিজে স্বাবলম্বী হতে তার চেষ্টার পরিধি আরো কয়েক গুন বৃদ্ধি পায়।

আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বাড়ি সংলগ্ন জায়গায় মাছ চাষ, দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল ফলাদি আবাদ করে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে মাদক বিরোধী আন্দোলনসহ নানামুখি উন্নয়নমূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে কাজ করে চলেছেন। এই শিক্ষিত যুবক চাকরির মতো সোনার হরিণের পিছে না ছুটে কিভাবে একজন মানুষ দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক ভাবে পরিচর্যা করে স্বল্প পুঁজিতে খুব সহজে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তিনি যেন এখন সেই চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে তার পাঁচটি কলাবাগান, দুটি লিচু বাগান, একটি পেয়ারা বাগান ও তিনটি মাছের খামার রয়েছে। এবার নতুন করে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় হাঁসের খামার গড়ে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছেন। এদিকে তার এই সাফল্য দেখে এলাকায় অনেকেই খামার করে হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। নিয়মিত নিচ্ছেন তার পরামর্শও।

বাড়ির আঙ্গিনায় হাঁসের খামার গড়ে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আত্মপ্রত্যয়ী শিক্ষিত যুবক মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া লিটন

এদিকে গত প্রায় ৩ মাস আগে সিলেট থেকে ৩ দিন বয়সী ২ হাজার ৫০০ হাঁসের বাচ্চা ২৫ টাকায় ক্রয় করে বাড়িতে খামার করে লালন পালন শুরু করেন। হাঁসের বাচ্চাসহ খামার গড়তে এতে প্রায় খরচ হয় দেড় লাখ টাকা। এরই মধ্যে ওই হাঁসের বাচ্চগুলোর বয়স হয়ে প্রায় আড়াই মাস। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই হাঁসগুলো বিক্রি করা হবে বলে জানায়।

স্থানীয় বাজারে এক একটি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা। খামারে বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ না হলে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে খামার মালিক ইব্রাহিম জানান। তাছাড়া তিনি কলা, লিচু ও মাছ চাষ করে বছরে লাখ টাকা আয় করছেন।

তিনি জানান, প্রথমে হাঁসের বাচ্চা নিয়ে সমস্যায় পড়লেও পরবর্তিতে সে সমস্যা দূর হয়েছে। তার খামারে হাঁসের ছোট খাট কোন সমস্যা হলে নিজেই সমাধান করে থাকেন। বড় কোনো রোগ বালাই হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পশু সম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন বলে জানান। রোগ বালাই থেকে মুক্ত রাখতে হাঁসগুলোকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। তাই কোনো রোগ বালাই হয়নি।

তিনি আরো জানান, হাঁস খামারে তিনিই রাত দিন পরিশ্রম করছেন। বর্তমানে প্রচণ্ড তাপদাহ ও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে খাল বিল জলাশয়ে কোনো পানি নেই। তাছাড়া পুকুর ও শুকিয়ে গেছে। যে কারণে হাঁসগুলো খামারেই আটকে রাখতে হয়। খাল, বিল ও পুকুরে পানি থাকলে সেখান থেকে ধান, ঝিনুক-শামুক জাতীয় খাদ্য খেয়ে আবার সন্ধার আগে তাদের আশ্রয় স্থলে আনা যেতো। এখন হাঁসগুলোকে খাবার হিসেবে গম, ধান ও ভূট্টা দিতে খরচের পরিমাণ কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দৈনিক যেখানে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হতো বর্তমানে পানির অভাবে ৫ হাজার টাকার ওপর খরচ হচ্ছে। পানি থাকলে লাভের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেতো।

বাড়ির আঙ্গিনায় হাঁসের খামার গড়ে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আত্মপ্রত্যয়ী শিক্ষিত যুবক মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া লিটন

ইব্রাহিম বলেন, ছোট বেলা থেকেই হাঁস খামার করার প্রতি যথেষ্ট ইচ্ছা ছিল। সময় সুযোগ না থাকায় করা সম্ভব হয়নি। হাঁস খামার করা সহজ কাজ হলেও এতে অনেক ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ খামারে মরক লাগতে পারে। তবে সচেতন থাকলে ঝুঁকি এড়িয়ে ভাল মুনাফা করা যায়।

তিনি বেকার যুবকদেরকে বলেন, হতাশার কিছু নেই। কোনো কাজকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সঠিকভাবে শ্রম দিলে হাঁস পালনের মধ্যদিয়ে দেশেই বিদেশি টাকার চেয়েও বেশি উপার্জন করা সম্ভব।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামাল বাশার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ উপজেলায় অনেকেই খামার করে হাঁসপালনের মাধ্যমে লাভের মুখ দেখছেন। আর ইব্রাহিম ভূঁইয়া লিটন এলাকায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছেন। তার মতো অন্যান্য বেকার যুবকরা ঘরে বসে না থেকে এ ধরনের খামার করতে এগিয়ে আসা উচিৎ। কোনো কাজকে ছোট করে দেখলে হবে না। এলাকায় যারা খামার গড়তে চাইবে প্রয়োজনে সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তাছাড়া প্রতিনিয়ত খামারি ও পালনকারীদেরকে রোগ বালাই থেকে রক্ষা পেতে সব সময় পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।