202635kk jack ma

জ্যাক মা যেভাবে সফল হয়েছিলেন!

ক্যারিয়ার

বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা বারবার ব্যর্থ হয়েও ৪২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ২০ আগস্ট ২০১৮ সালে আফ্রিকার তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলেছিলেন নিজের সংগ্রামের কথা, দিয়েছিলেন অনুপ্রেরণা। জ্যাক মার দেওয়া বক্তৃতার কিছু অংশ পড়তে পারেন এখানে..

আমি সব সময় বিশ্বাস করি, আপনার যদি দেখেন সামনে এগোনোর পথ তৈরিই আছে, তার মানে আপনি দেরি করে ফেলেছেন। উদ্যোক্তাদের কাজই হলো নতুন পথ আবিষ্কার করা। যদি সবকিছু আমার হাতের কাছেই থাকত, তাহলে হয়তো আলিবাবার জন্ম হতো না। আমার কাছে টাকা ছিল না, বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনবার অকৃতকার্য হয়েছি, মা-বাবা খুব দরিদ্র ছিলেন, মোটকথা সামনে কোনো সুযোগ ছিল না।

১৯৯৪ সালে যখন আমি ব্যবসা শুরু করি, তখন অনেকেই বলেছিল, জ্যাক মিথ্যা কথা বলছে। ইন্টারনেট বলে কিছু নেই। আমি আমার প্রতিষ্ঠানের নাম নিবন্ধন করতে গেছি। সেখানকার কর্মকর্তারা বললেন, তুমি কী ধরনের প্রতিষ্ঠান চালু করতে চাও? আমি বললাম, হানজো ইন্টারনেট কনসাল্টিং কোম্পানি। তাঁরা বললেন, ইন্টারনেট? আমাদের অভিধানে এ রকম কোনো শব্দ নেই। তাঁরা আমার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত যখন আমি আমার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করলাম, চীনে তখনো ইন্টারনেট ছিল না। আমার প্রতিষ্ঠান চালু করার তিন মাস পর চীনে ইন্টারনেট এল।

আমি মিথ্যা কথা বলিনি, সেটা প্রমাণ করার জন্য টেলিভিশনের লোকজনকে আমার বাসায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। মনে আছে, ব্রাউজারে প্রথম পৃষ্ঠাটা ডাউনলোড হতেই সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছিল। সত্যি! তখন কেউ ইন্টারনেট বিশ্বাস করত না, ই-কমার্স বিশ্বাস করত না। কেউ ভাবতেও পারেনি, চীনে ই-কমার্স সম্ভব। কোনো কারিগরি সহায়তা ছিল না, ক্রেডিট কার্ড ছিল না।

আমার অ্যাপার্টমেন্টে যখন ১৭ জন সহযোগী নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম, আমাদের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়। বলেছিলাম, আমরা পৃথিবীর সেরা ১০টা ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইটের মধ্যে অন্যতম হব। বলেছিলাম, আমাদের প্রতিষ্ঠান অন্তত ১০২ বছর টিকবে। অথচ তখনো জানতাম না, পরের মাসের বেতন কোথা থেকে দেব। চোখে স্বপ্ন থাকলে নিজেকে কখনো দরিদ্র মনে হয় না। আমরা বলিনি, কাল আমরা জিতব। বলিনি আগামী বছরের মধ্যে আমরা সফল হব। বলেছিলাম, আগামী ২০ বছরের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাব। আলিবাবা প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পেরিয়েছে। হ্যাঁ, এখন আমরা বিশ্বের সেরা ১০টি ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি। ১৯ বছর আগে কেউ ভাবতেও পারেনি, চীনের একটা প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সেরা ১০ প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের একটি হতে পারে। আপনারা যদি স্বপ্ন না দেখেন, কাজ শুরু না করেন, তাহলে কখনোই এটা সম্ভব হবে না।