Image 123584 1616214227

ফেসবুকে ব্যবসা করতেও ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক!

বিজনেস

সরকার ফেসবুক বা অন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ই-কমার্স পরিচালনাকারীদের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। এছাড়া, মার্কেটপ্লেসে পণ্য বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ই-কমার্সগুলোর ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি ভ্যাট নিবন্ধনও থাকতে হবে।

অন্যদিকে, যেসব কুরিয়ার সার্ভিস ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সিস্টেমে ই-কমার্সের পণ্য ডেলিভারি দিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে নগদ মূল্য সংগ্রহ করে, সেসব অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন বাধ্যতামূলক করতে একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে ব্যাংকে ‘সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট’ খুলতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টে ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা ছাড়া অন্য কোন অর্থ লেনদেন করা যাবে না।

এই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিকে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়া, কুরিয়ার সার্ভিসেস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএসএবি) এর সদস্য হতে হবে। এসব বিধান করে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গাইডলাইনের খসড়া তৈরি করে স্টেকহোল্ডারদের মতামতের জন্য পাঠিয়েছে। এতে ই-কমার্সখাতে শৃঙ্খলা বাড়বে বলে মনে করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।

বর্তমানে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সদস্য প্রায় ১৩০০। এর বাইরে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি ক্ষুদ্র ই-কমার্স ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ব্যবসা করছে বলে জানিয়েছেন ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ তমাল।

যে সকল প্রতিষ্ঠান ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ই-কমার্স পরিচালনা করছেন সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া মার্কেটপ্লেসে পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও ভ্যাট নিবন্ধন থাকতে হবে।

এদিকে যে সকল কুরিয়ার সার্ভিস ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ ব্যবস্থায় ই-কমার্সের পণ্য ডেলিভারি করে ক্রেতাদের থেকে নগদ মূল্য নিয়ে থাকে সেসব অর্থ ব্যাংকিং সিস্টেমে বাধ্যতামূলক করার জন্য একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা খসড়া তৈরি করে স্টেকহোল্ডারদের মতামতের জন্য পাঠিয়েছে ব্যাংকটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন নীতিমালার মাধ্যমে ই-কমার্সখাতে শৃঙ্খলা বাড়বে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২১ মার্চ) স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১’ শিরোনামের নীতিমালা নিয়ে বৈঠক হবে। বৈঠকে কোনো মতামত পাওয়া গেলে তা সংযোজন-বিয়োজন করে আগামী মাসেই জারি করা হবে।

এ বিষয়ে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল জানিয়েছেন, আধুনিক এই সময়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে ই-কমার্স দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে এবং বেকারত্বের সংখ্যা কমছে। এই খাতকে কঠোর নীতিমালায় আটকে দিলে অগ্রগতির এই বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আশা করছি এমন কোনো শর্ত রাখা হবে না যাতে করে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়।