ই-কমার্স ব্যবসার A to Z!

বিজনেস অনলাইন মার্কেটিং বিজনেস আইডিয়া

ই-কমার্স ব্যবসা কেন করবেন ?

আপনি যদি যথেষ্ট পরিমানে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে থাকেন। ক্রেতাকে ভালো মানের পন্য কিভাবে সরবারহ করতে হয় । ক্রেতার পছন্দ এবং রুচিশীল পন্য দিতে পারেন তাহলেই আপনি ই-কমার্স শুরু করতে পারেন।

কিন্তু এই ব্যবসা সম্পর্কে আপনার খুব ভালো ধারনা থাকতে হবে। ব্যবসা সম্পর্কে ভালো আইডিয়া থাকতে হবে এবং বিভিন্ন ক্রেতাকে আকর্ষন করার জন্য গুনাগুন থাকতে হবে। এতে করে ব্যবসার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী।

যে সকল বিষয়ে আপনার জ্ঞান কম আছে একটু সময় নিয়ে ভালো ভাবে জেনে নিন। কারন ব্যবসা শুরু করলে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে যেমনঃ পন্যর সোর্সিং, পন্যর সরবারহ , ক্রেতার সাথে যোগাযোগ রাখা, কাস্টমার সাপোর্ট, সময়ের সাথে ব্যবসার নিয়ম কানুন ঠিক রাখা, ব্যবসার আইন কানুন সম্পর্কের জ্ঞান রাখা ইত্যাদি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা রাখতে হবে ।

আপনার মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে, এই সকল বিষয়ের জন্য কি দক্ষ জনবল নিয়োগ দিবো। তাহলে বলবো, দক্ষ লোক চিনতে হলে আপনার ও দক্ষতা থাকতে হবে। দক্ষ লোক আপনার ব্যবসার কাজে সহযোগীতা করবে অথবা প্রসারে ভূমিকা রাখবে কিন্তু গঠনমূলক অবস্থানগত বিষয়ে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনার সিদ্ধান্তই ব্যবসার চালিকাশক্তি।

ই-কমার্স ব্যবসা কত ধরনের?

ই-কমার্স ব্যবসা চার ধরনেরঃ

  • Business to Business(B2B)বিটুবি মডেল হচ্ছে পাইকারি ব্যবসার মত, যেখানে একজন ব্যবসায়ি অন্য ব্যবসায়ির নিকট পণ্য বিক্রয় করে থাকেন।
  • Business to Consumer(B2C)বিটুসি মডেল হচ্ছে খুচরা ব্যবসা, যেখানে ব্যবসায়িরা সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করে থাকেন।
  • Consumer to Consumer (C2C) – সিটুসি মডেলের ব্যবসার ক্ষেত্রে একজন ভোক্তাকে সরাসরি অন্য ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করে থাকেন।
  • Consumer to Business (C2B)- যেখানে বিক্রেতা তার পণ্য ও সেবার বিবরণ পোষ্ট করেন এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেই সকল পণ্য বা সেবার ক্রয় করে থাকেন।

ই-কমার্স ব্যবসা শুরুর প্রস্তুতিঃ

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রথমেই যে ই-কমার্সের কথা মাথায় আসে। ই-কমার্স কি? কেন এই ব্যবসা করবেন? কিভাবে এই ব্যবসা করবেন? বারবার এই কথা গুলো মাথায় ঘুরে অনেক প্রশ্ন আসে।

ব্যবসা করার মূল কথা হচ্ছে রিসার্চ এন্ড ডেভলপমেন্ট অথবা R&D। একজন উদ্দ্যোক্তা হিসেবে আপনি যেমন সফল হতে পারেন আবার সফলতা নাও আসতে পারে।

ব্যবসা শুরু করার আগে এবং পরে রিসার্চ এন্ড ডেভলপমেন্ট যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করেন তাহলে আপনি ব্যবসার জন্য যথেষ্ঠ পরিশ্রম করছেন না।

কি ধরনের পন্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন?

পন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে মার্কেট পর্যালোচনা  করেত হবে। বাজারে কি ধনের পন্যর চাহিদা ক্রেতাদের ভিতরে বেশি সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

যে সকল পন্য নিয়ে কাজ করবেন তা সহজে সংগ্রহ করতে পারববেন কিনা? পন্যগুলো কম খরচে সংগ্রহ করা যাবে কিনা? পন্য সংগ্রহ কঠিন হলে তা কত সহজে সংগ্রহ করা যায় তা জানতে হবে।

১) পন্যর সোর্স ঠিক করুনঃ

কি ধরনের ব্যবসা করবেন তা ঠিক করার পর কোথায় থেকে পন্য সংগ্রহ করবেন তা জানতে হবে। পন্যর পাইকারী কোথায় কিনতে পারবেন সেটা ঠিক করুন। পন্যর মান যাছাই করুন। পন্যর স্টক কেমন আছে ।

আপনি চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার করলে পন্যের সরবারহ করতে পারবে কিনা? একজন নতুন উদ্দ্যোক্তার জন্য পন্যর মান নির্ধারন , সঠিক সময়ে পন্য পৌঁছে দেয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য আপনাকে পন্যর সঠিক সোর্স নিধারন করতে হবে দক্ষ একটি টিম গঠন করতে হবে।

২) ব্যবসায়িক নাম নির্বাচন করুন:

ব্যবসার নাম নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ই-কমার্সের ব্যবসার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে কোম্পানির নাম এবং ডোমেইন এর নাম নির্বাচন করা।

আপনার ব্যবসার পন্য অপর ভিত্তি করে ব্যবসার নাম নির্ধারন করুন, আপনি যদি একের অধিক পন্য বিক্রি করে থাকবেন তাহলে সেই ভাবে নাম পছন্দ করুন। মনে রাখবেন আপনার কোম্পানির নামের মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি পাবে।

৩) মার্কেটিং পরিকল্পনা ঠিক করাঃ

নতুন উদ্দ্যোক্তরা  মার্কেটিং এর জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে নিচে দেওয়া হলঃ

  • ফেসবুক পেইজের মাধ্যমেঃ

ফেইসবুক পেইজ আপনার বিজনেসের সবচেয়ে বড় মার্কেটিং এর মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। ফেইসবুক পেইজটিকে সব ইনফরমেশন দিয়ে সাজাবেন যাতে গ্রাহক আপনার ব্যবসার ধরনটি বুজতে পারে। ফেসবুক পেইজে যেই সব পণ্য নিয়ে কাজ করবেন তার বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিতে পারেন।

  • ফেসবুক গ্রুপ খুলুনঃ

ফেইসবুকে মার্কেটিং এর আর একটি মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ। ফেসবুক মেম্বারদের এড করুন এবং গ্রুপ বড় করুন। আপনার ব্যবসার জন্য এটি সফল মাধ্যম হতে পারে।

  • পন্যর ভিডিও ইউটিউবে দেয়াঃ

ই-কমার্স ব্যবসার বেশির ভাগই ফেসবুক মার্কেটিং করে কিন্তু ইউটিউবকে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু ইউটিউব হতে পারে আপনার পন্য বিক্রি সফল মাধ্যম। পন্যর ভিডিও করে আপনি ইউটিউবে দিতে পারেন। ইউটিউবে ভিডিও দিয়ে আপনি প্রচারনা করতে পারেন। এই মাধ্যমে অনেকেই ভিডিও দেখে পন্য ক্রয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে।

  • গুগলে বিজ্ঞাপন দেয়াঃ

বর্তমান এ অনেক কম কোম্পানিই এই মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে । কিন্তু এই মাধ্যমের সাহায্য আপনি অনেক কম খরচে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারনা চালাতে পারেন।

৪) ওয়েব সাইট বানানো:

দীর্ঘ স্থায়ী ব্যবসার জন্য অবশ্যই বিজনেজ কোয়ালিটির একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এ জন্য ওয়েবসাইট এর উপর নির্ভর করে ব্যবসা কে এগিয়ে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনেকেই ফেইসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করে থাকে কিন্তু ওয়েবসাইট ভিত্তিক ব্যবসা করলে আপনার ব্যবসার ব্যান্ড ভ্যালু বাড়বে।  ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবসা করলে কোনধরনের বিজ্ঞাপন ছাড়াই অর্ডার পরবে।

৫)  ডেলিভারির মাধ্যমঃ

পন্য ডেলিভারির জন্য আপনি থার্ড পার্টির কুরিয়ার গুলো ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রিক কিছু কুরিয়ার সার্ভিস আছে , যাদের সাথে কাজ করলে আপনি কিছুটা ঝামেলামুক্ত থাকতে পারবেন।

আপনার পন্যর কোয়ালীটি এবং দ্রুত ডেলিভারীর উপর ব্যবসার সুনাম বাড়ে। তাই সঠিক সময়ে পন্য ডেলিভারীর চেষ্টা করুন। ঢাকা সহ অন্যান্য কিছু জেলাতে আপনি ক্যাশ অন ডেলিভারি করতে পারেন। এজন্য পাঠাও কুরিয়ার, ই-কুরিয়ার অথবা এস এ পরিবহন , সুন্দরবন ,জননী কুরিয়ার এর সাহায্য নিতে পারেন।

৬) ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিবেন কিভাবে?

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়ার উপায় হচ্ছে আপনার মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড থাকতে  হবে। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড(ইবিএল) একাউন্ট বা ব্যাংক ব্যালেন্স ছাড়াই মাস্টারকার্ড কিংবা ভিসা কার্ড প্রদান করে।

কিন্তু আপনার অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে। আপনার পাসপোর্ট না থাকলে যে কোন নিকট আত্মীয় এর পাসপোর্ট দিয়ের একাউন্ট খুলতে পারেন। মাস্টারকার্ড কিংবা ভিসা কার্ড পেয়ে গেলে টাকা জমা দিলে সমপরিমাণ ডলার জমা প্রদান করবে ব্যাংক কতপক্ষ।

Tagged