http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/05/afia-sells-11-lakh-products-at-a-cost-of-Tk-5000.jpg

হাতখরচের পাঁচ হাজার টাকার ব্যবসায় ১১ লাখের পণ্য বিক্রি আফিয়ার

বিজনেস বিজনেস আইডিয়া

কোনো এক ঈদে হাতখরচের পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ না করে, সেটাকে পুঁজি বানিয়ে শুরু করেন অনলাইনে ব্যবসা। গত দশমাসে সে ব্যবসা থেকে বিক্রি করেছেন ১১ লাখ টাকার পণ্য। যেখানে লাভের পরিমাণ দুই লাখ টাকার অধিক। বলছিলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফিয়া ইবনাত’র কথা।

আফিয়া ইবনাত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনা জেলা সদরের শামসুদ্দিন আহম্মেদ ও জায়েদা আক্তার দম্পতির মেঝো সন্তান তিনি। করোনাকালীন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় গড়ে তুলেছেন অনলাইন বিজনেস প্লাটফরম ‘চারু কথন’।

শুরুর গল্প সম্পর্কে আফিয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরি। তখন মনে হতো অলস সময় না কাটিয়ে কিছু করি। সে ইচ্ছে থেকেই উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলাম। গত রোজার ঈদে হাতখরচের জন্য পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। সেগুলো খরচ না করে অনলাইনে ব্যবসার কাজে লাগাই। সেই ঈদে পাওয়া টাকা থেকেই আমার ব্যবসায়ী হয়ে উঠা।

আফিয়া ইবনাত বলেন, সেই ৫ হাজার টাকা দিয়ে কোনো অর্ডার না পেয়েও রিশিকা সিল্ক আর চুন্দ্রি বাটিক নিয়ে আসি। বিক্রি হবে কিনা চিন্তায় ছিলাম। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তুলে শেয়ার করার ২-১ দিনের মধ্যেই প্রথম অর্ডারটি আসে। তারপর আস্তে আস্তে বিক্রি বাড়তে থাকে। শাড়ির ব্যবসা দিয়ে শুরু করলেও পরে থ্রিপিস, খাদি পাঞ্জাবি যুক্ত করি। এখন পর্যন্ত ২ হাজার পিসের বেশি শাড়ি ও প্রায় ২০০ পাঞ্জাবি বিক্রি করেছি।

ব্যবসার বয়স গড়িয়েছে মাত্র ১০ মাস। এই অল্প সময়েই প্রায় ১১ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছি। যেখানে লাভ ২ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। প্রথমদিকে ব্যবসা প্রচারণায় কষ্ট হলেও এখন আগের মতো প্রতিবন্ধকতা নেই। মাসে লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। চাইলে আরো বেশি বিক্রি বাড়ানো সম্ভব। একাই কাজ করি, ফলে অর্ডার নিতে মাঝেমধ্যে হিমশিম খেতে হয়। মনের জোর ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।

আফিয়া আরো বলেন, আমার উদ্যোগে প্রথম থেকেই পরিবার পাশে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনরা সবাই অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পরিচিতদের দেওয়া অনুপ্রেরণা আমাকে অনেক সাহস যোগায়। ফলে কাজ করতেও সুবিধা হয়।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে সফল উদ্যোক্তা আফিয়া বলেন, শাড়ি ও পাঞ্জাবি নিয়ে সতন্ত্র চারু কথনের একটি নিজস্ব শো-রুম তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। আমার ভাবনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক’।

Tagged