http://igeneration.com.bd/wp-content/uploads/2021/04/ফেসবুকে-চ্যাটিং-এ-সময়.jpg

ফেসবুকে চ্যাটিং বা টিকটকে সময় নষ্ট না করে এর মাধ্যমে উদ্যোগ শুরু করি!

বিজনেস বিজনেস আইডিয়া

ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে বর্তমানে জনপ্রিয়তার একদম শীর্ষে রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ যখন বিনোদন এবং শুধুমাত্র সময় কাটাতে ব্যস্ত ফেসবুকে তখন অনেকেই এসবে সময় নষ্ট না করে খুঁজছেন ভালো কিছু করার উপায়। পড়াশোনা, আউটসোর্সিং, অনলাইন জব ছাড়াও ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে দেশি পণ্যের বিভিন্ন উদ্যোগ। তাদের কাছে ফেসবুক হয়ে উঠছে কাজ করার একটি ভালো মাধ্যম। মাগুরার মেয়ে এবং ঢাকার বাসিন্দা রেহমুমা হোসেন রিংকি পেশায় শিক্ষক। মাত্র দশ মাস আগে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ঘরবন্দী অবস্থায় যাত্রা শুরু করেন উদ্যোগের। তার উদ্যোগের নাম “Rinki’s Attire” (রিংকি’স এটিয়্যার)। আজ আমরা কথা বলবো রেহমুমা হোসেন রিংকি’র সাথে এবং জানবো তার উদ্যোক্তা জীবনের গল্প। চলুন জানা যাক-

আপনার উদ্যোগের শুরুর গল্প কি?
রেহমুমা হোসেন রিংকিঃ দেশি পন‍্য নিয়ে অনলাইনে কাজ শুরু ২০২০ সালের জুলাই থেকে অর্থাৎ পেন্ডামিকের সময়।আর যদি বলেন কেন? তার জবাব,আমার হাতে স্মার্টফোন আছে সাথে ফেসবুক একাউন্ট এবং ইন্টারনেট। তাই ফানি ভিডিও আর চ্যাটিং এ সময় নষ্ট না করে ফেসবুকের মাধ্যমে উদ্যোগ শুরু করি। আর এই সব কিছুই শিখেছি আমার উদ্যোক্তা জীবনের শিক্ষা গুরু রাজিব আহমেদ স্যারের মাধ্যমে।

যশোরের হাতের কাজের পোশাক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কি ধরণের চ্যালেঞ্জ ফেইস করেছেন?
রেহমুমা হোসেন রিংকিঃ আমি কাজ শুরু করি মনিপুরী শাড়ী নিয়ে এবং রেসপন্সও আলহামদুলিল্লাহ। আমি যেহেতু মাগুরা জেলার মেয়ে আর আমার নানীর গোত্র সব যশোরবাসী এবং যশোরের হাতের কাজের পন‍্য নিয়ে কাজ করছেন প্রায় ২৬বছর যাবৎ। আমি ছোটবেলা থেকেই এই পন‍্যের সাথে পরিচিত। আগে শুধু দেখতাম অরগেন্ডি কাপড়ের উপর কাজ করা হতো এখন অবশ্য বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে কাজ করা হচ্ছে। যাইহোক, নিজের উদ্যোগ শুরু করার পর ভাবলাম আমার এটা নিয়েও কাজ করা উচিত।তাই মনিপুরী শাড়ির পাশাপাশি যশোর হ‍্যান্ডস্টিচের ড্রেস,শাড়ি এবং বিছানার চাদর নিয়ে কাজ করছি। চ্যালেঞ্জ বলতে ঢাকা থেকে কর্মীদের পরিচালনা করা কষ্টকর, তাদের যতটুকু প্রাপ্য মজুরির সেটা তারা পায়না এটা সব সময় শুনে আসছি। আমার উদ্যোগ বড় হলে তাদের নিয়ে কিছু করার ইচ্ছা আছে।

আপনার সফলতার পেছনে অনুপ্রেরণা কি?
রেহমুমা হোসেন রিংকিঃ আমি মনে করি আমি এখনো সফল হইনি, কাজ করছি। তবে উই এর একজন লাখপতি হয়েছি সেপ্টেম্বর,২০২০ এ। ঘরে বসে সংসার, সন্তান এবং আমি শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি যে নিজের একটা স্বপ্ন পূরনের সুযোগ পাবো এটা ভাবতে ও পারতাম না যদি উই এবং ডিএসবি প্লাটফর্ম না থাকতো। আমি রাজিব স্যারকে আমার উদ্যোক্তা জীবনের আশীর্বাদ এবং শিক্ষক মানি। স্যারের প্রতিটি দিকনির্দেশনা একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলমন্ত্র। কৃতজ্ঞতা রাজীব স্যারের কাছে সবসময়। নিশা আপুকে দেখে শক্তি পাই এবং অবশ্যই আমার পরিবারকে ধন্যবাদ।তাদের সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না। আমার দুই মেয়ে, একজন এক বছর বয়সী; সেও অনেক কষ্ট করে সাথে আমার সাথে। আমার কাজের চালিকাশক্তি আমার সম্মানিত ক্রেতাগণ।তাদের কাছে কৃতজ্ঞ কারণ তারা ছাড়া আমি কিছুই না।

মণিপুরী শাড়ির ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কেমন স্বপ্ন দেখেন?
রেহমুমা হোসেন রিংকিঃ স্বপ্ন অনেক।মনিপুরী শাড়ির ফিউশন করবো ইচ্ছা আছে, এটা দিয়ে ওয়েস্টার্ন কিছু বানানো যায় কিনা দেখার। মনিপুরী শাড়ীর জনপ্রিয়তার ঢেউ বর্তমানে আমাদের দেশে যেভাবে শুরু হয়েছে এই স্রোত দেশের বাইরেও সমান তালে প্লাবিত হোক সেই লক্ষ্যে কাজ করবো।মনিপুরী তাঁত শিল্প নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানানোর খুব মনোবাসনা যেটা আজ অথবা কাল করবোই ইনশাআল্লাহ।

দেশি পোশাক নিয়ে কাজ করতে গেলে কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিৎ?
রেহমুমা হোসেন রিংকিঃ অনেক বিষয় আছে।আমরা জানি ২০০১-২০১০ দশকটাকে দেশী ফ‍্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা স্বর্ণযুগ বলা হয়। আর এখন ২০২১সাল, দেশি পোশাকের চাহিদা অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।বিদেশি পোশাকের প্রতি আমাদের মোহ কমেছে অনেক। তাই এটা ধরে রাখতে হলে আমাদের পোশাকের ডিজাইনে নতুনত্ব,কোয়ালিটি, আবহাওয়া,ক্রেতার ক্রয় করার সামর্থ্য আছে কিনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হবে। দেশীয় পোশাক পরার মধ্যে একটা গর্ব কাজ করে ঐ জায়গাটা ধরে রাখতে হবে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা ও স্বপ্ন কি রেহমুমার?
রেহমুমা হোসেন রিংকিঃ করোনা না এলে হয়তো আমার মধ্যে যে একজন ঘুমন্ত উদ্যোক্তা রয়েছে এটা বুঝতেই পারতাম না। উই থেকে যাত্রা শুরু এবং অনলাইন বিজনেস এর খুঁটিনাটি যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে শিখছি ডিএসবি গ্ৰুপ থেকে।এখানে নিয়মিত পড়াশোনা করছি এবং উপকার পাচ্ছি।সাথে আমি আমার উদ‍্যোগের জন্য রাত-দিন শ্রম দিয়ে যাচ্ছি।আগে কখনো রাত ১২টার পরে জেগে থাকিনি আর এখন রাত ৩টা, ৪টা পর্যন্ত কাজ করি।কারণ আমার ছোট একটা মেয়ে আছে,ও ঘুমালে নিরিবিলি কাজগুলো করি। আর এই সব কিছু শিখেছি রাজিব স‍্যারের কাছ থেকে। আমি যত সময় দিব এবং নিয়মিত থাকবো কাজের প্রতি আমার সফল হওয়ার চান্স ততো বেশি।আমি আমার উদ্যোগ Rinki’s Attire (রিংকি’স এটিয়্যার) কে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই এবং দেশীপন‍্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।আমার জন্য দোয়া করবেন।ধন্যবাদ।